
নিরাপদ বিনিয়োগে বড় রিটার্ন। সৌজন্যে পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট স্কিম। মাত্র ১ লক্ষ টাকা জমা রাখলে ৫ বছরে প্রায় ৪৪,৯৯৫ টাকা পর্যন্ত সুদ। অর্থাৎ মেয়াদ শেষে মোট টাকা দাঁড়াতে পারে ১,৪৪,৯৯৫ টাকা। সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত এই স্কিম এখন ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম জনপ্রিয় বিকল্প হয়ে উঠছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অনেকেই ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের বদলে নিরাপদ এবং স্থায়ী রিটার্নের সন্ধান করছেন। সেই জায়গায় পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট (Post Office Time Deposit) স্কিম বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, এই প্রকল্প সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত হয়। ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা করে চিন্তার প্রয়োজন হয় না।
পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিম কী?
পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিম অনেকটা ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের মতো। এই স্কিমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এককালীন টাকা জমা রাখতে হয়। নির্দিষ্ট সময় শেষে সুদ-সহ পুরো টাকা পাওয়া যায়। এই স্কিমে ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর এবং ৫ বছর; এই চারটি মেয়াদের মধ্যে বিনিয়োগ করা যায়।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়েও এই অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যে কেউ বিনিয়োগ করতে পারেন।
সুদের হার কত?
বর্তমানে পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিমে সুদের হার যথেষ্ট আকর্ষণীয়। মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হার হল;
১ বছরের জন্য: ৬.৯%
২ বছরের জন্য: ৭.০%
৩ বছরের জন্য: ৭.১%
৫ বছরের জন্য: ৭.৫%
এই সুদ চক্রবৃদ্ধি হারে (Compound Interest) গণনা করা হয়। প্রতি তিন মাস অন্তর সুদ মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুদের উপরও সুদ পাওয়া যায়।
১ লক্ষ টাকায় কত লাভ?
যদি কোনও বিনিয়োগকারী ৫ বছরের জন্য ১,০০,০০০ টাকা জমা করেন এবং সুদের হার ৭.৫% থাকে, তবে মেয়াদ শেষে মোট টাকা হবে প্রায় ১,৪৪,৯৯৫ টাকা। অর্থাৎ শুধুমাত্র সুদ থেকেই আয় হবে প্রায় ৪৪,৯৯৫ টাকা।
এই চক্রবৃদ্ধি সুদের কারণেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই স্কিম অত্যন্ত লাভজনক বলে মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।
কর ছাড়ের সুবিধাও রয়েছে
পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিমের আরও একটি বড় সুবিধা হল কর সাশ্রয়। ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করলে আয়কর আইনের ধারা ৮০সি অনুযায়ী কর ছাড় পাওয়া যায়। ফলে বিনিয়োগের পাশাপাশি কর বাঁচানোর সুযোগও রয়েছে।
বর্তমানে বাজারে নানা ধরনের বিনিয়োগ বিকল্প থাকলেও ঝুঁকির বিষয়টি সব সময় থাকে। শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে রিটার্ন বেশি হলেও ঝুঁকিও বেশি। অন্যদিকে পোস্ট অফিস স্কিম সম্পূর্ণ সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত। ফলে মূলধন সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।
বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ঝুঁকিমুক্ত স্থায়ী আয়ের খোঁজে থাকা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই স্কিমের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।
কারা বিনিয়োগ করবেন?
যাঁরা নিরাপদ বিনিয়োগ চান, নির্দিষ্ট সুদ চান এবং দীর্ঘমেয়াদে টাকা বৃদ্ধি করতে চান, তাঁদের জন্য পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিম অন্যতম সেরা অপশন হতে পারে। সরকারি নিরাপত্তা, আকর্ষণীয় সুদের হার এবং কর সাশ্রয়ের সুবিধা; সব মিলিয়ে এই স্কিম এখন অনেকেরই নজরে।