
PPF Calculator: PPF করলেই যথেষ্ট। না, সবার ক্ষেত্রে হয় তো এটা সঠিক নয়। কিন্তু যাঁরা একেবারে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি ছাড়াই টাকা বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য এক বিকল্প নেই। ঝুঁকি কম, অথচ দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত রিটার্ন। পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ এর জুড়ি মেলা ভার। পিপিএফ ক্যালকুলেটরের(PPF Calculator) হিসাব বলছে, নিয়ম মেনে প্রতি বছর বিনিয়োগ করতে পারলে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। তার জন্য কীভাবে বিনিয়োগ করবেন? সেই নিয়েই আলোচনা করা হল এই প্রতিবেদনে। বর্তমান রেট অনুযায়ী, পিপিএফে বার্ষিক সুদ ৭.১ শতাংশ। এই রেট অপরিবর্তিত থাকলে কী হবে? টানা ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগের ফলে মোট মূলধন দাঁড়াবে ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তার উপর চক্রবৃদ্ধি সুদের জোরে যোগ হয় প্রায় ১৮ লক্ষ ১৮ হাজার ২০৯ টাকা। সব মিলিয়ে মেয়াদ শেষে মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৪০ লক্ষ ৬৮ হাজার ২০৯ টাকা। সুদের হিসাব বছরে এক বার চক্রবৃদ্ধি পদ্ধতিতে করা হয়। আর ঠিক সেই কারণেই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এই টাকা উল্লেখ হারে বেড়ে ওঠে।
Tax Savings এর সুযোগও রয়েছে
এই সঞ্চয় প্রকল্পের আর এক বড় আকর্ষণ করছাড়। পিপিএফ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ ভাবে এক্সেম্পট-এক্সেম্পট-এক্সেম্পট বা ইইই শ্রেণিভুক্ত। অর্থাৎ, বিনিয়োগের সময়, সুদ পাওয়ার সময় এবং মেয়াদ শেষে টাকা তোলার সময়; তিন ক্ষেত্রেই করমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। আয়কর আইনের ৮০সি ধারায় আর্থিক বছরে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের উপর করছাড় মিলতে পারে। শুধু তাই নয়, মেয়াদ চলাকালীন যে সুদ জমা হয়, তার উপর কোনও আয়কর দিতে হয় না। এমনকি ১৫ বছর পরে যে পরিমাণ টাকা এককালীন পাওয়া যায়, সেটিও পুরোপুরি করমুক্ত।
তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। পিপিএফের সুদের হার স্থায়ী নয়। অর্থ মন্ত্রক প্রতি তিন মাস অন্তর সুদের হার পর্যালোচনা করে। ফলে ভবিষ্যতে সুদের হারে পরিবর্তন হলে চূড়ান্ত প্রাপ্তির অঙ্ক কম-বেশি হতে পারে।
অল্প ঝুঁকিতে ভবিষ্যতের জন্য বড় ফান্ড তৈরি করতে চাইলে, নিয়মিত পিপিএফে বিনিয়োগই সেরা অপশন হতে পারে। ধৈর্য আর সময়ই এক্ষেত্রে একমাত্র শর্ত।