
তিন দিনের মানিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকের পর বুধবার রেপো রেট ঘোষণা করলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। এদিন রেপো রেট ঘোষণার সময় বিশ্বজুড়ে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ করেন RBI গভর্নর।
তিনি জানান, এবারে রেপো রেট থাকছে অপরিবর্তিত। এর অর্থ হল আগের মতোই ৫.২৫ শতাংশেই স্থির থাকছে রেপো রেট। মনে করা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে, সেই দিকে নজর রেখেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট স্থির রাখার সিদ্ধান্ত নিল।
রেপো রেট কী?
RBI যে সুদের হারে দেশের ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেয়, সেই সুদের হারকেই বলে রেপো রেট। ব্যাঙ্কগুলি এই সুদের হারের উপর আরও সুদ চাপিয়ে সাধারণ মানুষকে ঋণ দেয়। ফলে রেপো রেটের ওঠা-নামার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্কের ঋণও মহার্ঘ অথবা সস্তা হয়।
গাড়ি-বাড়ির লোন কী সস্তা হতে চলেছে?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া রেপো রেটে সুদের হার সস্তা করলে দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলিও পরপর তাদের লোনের উপর সুদের হার কমিয়ে দেয়। কিন্তু এবারে রেপো রেট স্থির থাকায় গাড়ি-বাড়ির মতো লোনের সুদের হারও একই থাকবে বলে আশা করা যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হল, রেপো রেট বৃদ্ধি না হওয়া। সেক্ষেত্রে লোনের উপর EMI আরও বেড়ে যেতে পারে।
আর কী কী ঘোষণা করা হয়েছে?
মানিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকের ফলাফল ঘোষণার সময় RBI প্রধান সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন,মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে। তবে দেশের GDP বৃদ্ধির বিষয়েও আশাপ্রকাশ করেছেন RBI গভর্নর। ২০২৭ আর্থিক বছরের জন্য জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ থাকবে বলে জানেন মালহোত্রা।
পাশাপাশি চলতি অর্থবর্ষের প্রথম কোয়ার্টারে (এপ্রিল-জুন) অর্থনীতির বৃদ্ধি হতে পারে ৬.৮ শতাংশ, দ্বিতীয় কোয়ার্টার অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে অর্থনীতির বৃদ্ধি হতে পারে ৬.৭ শতাংশ, তৃতীয় কোয়ার্টারে এই বৃদ্ধির গতি হতে পারে ৭ শতাংশ এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ অর্থাৎ চতুর্থ ত্রৈমাসিকে আর্থিক বৃদ্ধি হতে পারে ৭.২ শতাংশ।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে দেশের আর্থিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৪.৬ শতাংশে থাকবে বলে জানিয়েছে রিজার্ভ ব্য়াঙ্ক অফ ইন্ডিয়া।