
বাড়িওয়ালা-ভাড়াটের দ্বন্দ্ব মেটাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। দু পক্ষের ঝামেলা মেটাতে ও নিয়মকে আরও সরলীকরণ করে তুলতে একটি নতুন ভাড়া চুক্তি (রেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট) আইন আনল কেন্দ্র। এর আওতায় বাড়িওয়ালারা যখন-তখন আর বাড়ি ভাড়া বাড়াতে পারবেন না। পাশাপাশি, অতিরিক্ত ডিপোজিট বা অগ্রিমে মাত্রাতিরিক্ত টাকাও নিতে পারবেন না। ফলে স্বস্তি পাবেন ভাড়াটেরা।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, কলকাতা, হায়দরাবাদের মতো শহরে বাড়ি ভাড়ার চাহিদা ব্যাপক। এই নতুন নিয়মের ফলে ভাড়াটেরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। এই নিয়মের আওতায় বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটেদের কোন কোন বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে? জেনে নেওয়া যাক
অগ্রিম টাকা নেওয়ার নিয়ম
বেঙ্গালুরুর মতো শহরে অভিযোগ উঠছিল প্রায় ৬ মাসের অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে নেওয়া হয়েছে পদক্ষেপ। যদি কেউ বাড়ি ভাড়া নেয় বাড়িওয়ালা তবে সর্বোচ্চ দু'মাসের ভাড়া ডিপোজিট রাখতে পারেন। বাণিজ্যিক ভাড়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম ৬ মাস করা হয়েছে।
অনলাইন রেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট থাকা জরুরি
বাড়ি ভাড়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিটি ভাড়াটেকে একটি ডিজিটালি স্ট্যাম্পযুক্ত এবং অনলাইনে রেজিস্টার ভাড়া চুক্তি (Rent Agreement)-র আওতায় আসতে হবে।
ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিয়ম
হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ানোর দিন এখন শেষ। এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর বাড়িওয়ালার তরফে ৯০ দিনের লিখিত নোটিশ দেওয়ার পরই ভাড়া পরিবর্তন করা যেতে পারে।
বাড়ি মেরামত করার ক্ষেত্রে নিয়ম
বাড়িতে রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কাজ হলে বাড়িওয়ালাকে আইন মোতাবেক ৩০ দিনের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। বাড়িওয়ালা এমনটা না করলে, ভাড়াটে ভাড়ার টাকার সঙ্গে এই টাকা অ্যাডজাস্টও করে নিতে পারেন।
যখন তখন বাড়িওয়ালা ভাড়াটের ঘরে ঢুকতে পারবে না
নতুন আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাড়িওয়ালা ভাড়াটের বাড়ি আসতে চাইলে তাঁকে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে।
এছাড়াও, নতুন নিয়ম মোতাবেক ভাড়াটেদের ভাড়া বাড়িতে বসবাসের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে হবে। উচ্ছেদের মতো পরিস্থিতিতে বাড়িওয়ালা চাইলেই নিজে থেকে এসিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মেনে আইনগত ভাবেই ভাড়াটেকে উচ্ছেদের কথা নতুন আইনে বলা হয়েছে। সরকারের মত, সব মিলিয়ে এরফলে উপকৃত হবেন বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটে উভয়পক্ষই।