
পশ্চিমবঙ্গের রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দুটি বড় মাল্টিট্র্যাকিং প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পগুলির ফলে পশ্চিমবঙ্গের ৫ জেলা এবং ঝাড়খণ্ড মিলিয়ে ভারতীয় রেলের নেটওয়ার্কে প্রায় ১৯২ কিলোমিটার নতুন লাইন যুক্ত হবে। প্রকল্পগুলির মোট আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪,৪৭৪ কোটি টাকা এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হল সাঁইথিয়া-পাকুর চতুর্থ লাইন এবং সাঁতরাগাছি-খড়্গপুর চতুর্থ লাইন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, সাঁতরাগাছি থেকে খড়্গপুর পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার অংশে চতুর্থ লাইন তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলকাতা থেকে খড়্গপুর পর্যন্ত তিনটি রেললাইন রয়েছে। নতুন চতুর্থ লাইন তৈরি হলে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচলের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
রেলমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কলকাতা থেকে মুম্বই এবং চেন্নাই পর্যন্ত রেল যোগাযোগ আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে। একইসঙ্গে হাওড়া-খড়গপুর-এ লোকাল ট্রেন পরিষেবাও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন লাইনের ফলে অন্তত ৫০টি নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে, যার মধ্যে লোকাল, মেল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনও থাকতে পারে।
তবে এই ঘোষণার পরেও সংশয় কাটেনি নিত্যযাত্রীদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে হাওড়া-খড়্গপুর রুটে লোকাল ট্রেন পরিষেবার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। প্রায়ই ট্রেন দেরিতে চলাচল করে, এমনকি অনেক এক্সপ্রেস ট্রেনও নির্ধারিত সময় মেনে চলতে পারে না। এক নিত্যযাত্রীর কথায়, দক্ষিণ-পূর্ব রেল এই লাইনকে প্রায় 'মালগাড়ির লাইনে' পরিণত করেছে। বিপুল সংখ্যক মালগাড়ি চলাচলের চাপের কারণে লোকাল ট্রেনের সময়সূচি বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। কখনও কখনও টিকিয়াপাড়া থেকে হাওড়া পৌঁছতে এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
যদিও রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, চতুর্থ লাইনের কাজ শেষ হতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগবে। নতুন লাইন চালু হলে ট্রেন চলাচলের চাপ অনেকটাই কমবে এবং যাত্রী পরিষেবাও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মাল্টিট্র্যাকিং প্রকল্পের ফলে পর্যটন ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে। বোলপুর-শান্তিনিকেতন, নন্দীকেশ্বরী মন্দির, তারাপীঠ, পটচিত্র গ্রাম, ধাদিকা বন, ভীমবন্ধ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং রামেশ্বর কুণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।