
সোমবার বাম্পার লাভের মুখে দেখেছিলেন ভারতীয় শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাঁদের মুখ ভার। কারণ, আজ সকাল থেকেই পড়তে শুরু করে সেনসেক্স ও নিফটি। এই সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে সেনসেক্স বা বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ পড়ে যায় ৭৮৯ .৪৯ পয়েন্ট। এটি নেমে আসে ৮২,৪৯৬.১৭ পয়েন্টে। ওদিকে আবার খারাপ হাল হয় নিফটিরও। এটি ২২২.৬৫ পয়েন্ট তলিয়ে যায়। এটি নেমে আসে ২৫,৪৯০.৩৫ পয়েন্টে।
এখন প্রশ্ন হল, কেন এভাবে পড়ছে ভারতের স্টক মার্কেট? আসুন কারণগুলি জেনে নেওয়া যাক।
আইটি স্টকের অবস্থা খারাপ
নিফটি আইটি ইন্ডেক্সের অবস্থা খুবই খারাপ। এটি দিনের শুরুতেই মোটামুটি ৩ শতাংশ পড়ে গিয়েছে।
ইনফোসিস, টিসিএস, এইচসিএল টেক, টেক মাহিন্দ্রা, উইপ্রো, কোফোর্জ, পারসিস্ট্যান্ট সিস্টেম এবং এমফাসিসের মতো শেয়ার রয়েছে রেড জোনে।
এদিন ইনফোসিস পড়ে গিয়েছে ৩.০৫ শতাংশ, এইচসিএল লিমিটেড ৩.৭৫ শতাংশ, টেক মাহিন্দ্রা শেয়ার ৩.৩১ শতাংশ। ভারী লোকসান হয়েছে বিনিয়োগকারীদের।
গ্লোবাল ট্যারিফ নিয়ে সমস্যা রয়েছে
সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর ১০ শতাংশ গ্লোবাল ট্যারিফ বসিয়েছিলেন তিনি। আবার রাতারাতি সেটা বাড়িয়ে করে দেন ১৫ শতাংশ। এখন আবার তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নতুন করে ট্যারিফ বসানো হতে পারে। আর এই কারণেই হু হু করে পড়ে যায় আমেরিকার শেয়ারবাজার।
এখানেই শেষ নয়, গতকালই ইউরোপীয় ইউনিয়ান আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করেছে। সেই কারণেও পড়ছে আমেরিকার শেয়ারবাজার। আর সেই ট্রেন্ড ধরেই খারাপ অবস্থা ভারতের সেনসেক্স ও নিফটির।
বৃহত্তর মার্কেটের অবস্থাও খারাপ
শুধু আইটি স্টক নয়। এদিন অবস্থা খারাপ হয়ে যায় প্রায় সব সেক্টরের স্টকেরই। তবে টাটা স্টিল থেকে শুরু করে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, এশিয়ান পেইন্টস এবং এক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ার অবশ্য খানিকটা উপরের দিকে ওঠে।
যদিও মার্কেটের অবস্থা সত্যিই খারাপ। এমন পরিস্থিতিতে এনরিচ মানির সিইও পনমৌদি জানিয়েছেন, নিফটির সাপোর্ট রয়েছে ২৫৫০০-২৫৪৫০ লেভেলে। এর থেকে নেমে গেলে সূচক চলে যেতে পারে ২৫৩০০ থেকে ২৫২০০ থেকে। আর উপরের দিকে ২৫৬৫০ থেকে ২৫৭৫০ রেজিস্ট্যান্স হতে পারে।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি পড়ে আবার স্টক কিনবেন না বা বিনিয়োগ করবেন না। এটি খবর দেওয়ার এবং শিক্ষার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়া নিজেও করুন রিসার্চ। তারপরই স্টকে করুন ইনভেস্ট।