
Silver Price Hits Rs 3 Lakh Per Kg: একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক-হুঁশিয়ারি। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। জোড়া ধাক্কায় প্রমাদ গুনছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থনীতির স্বাভাবিক নীতি মেনেই তাই সবার আগ্রহ সোনা-রুপোয়। কেন? কারণ স্টক, ফান্ড, বড় ব্যবসা টালমাটাল হতেই পারে। কিন্তু সোনা-রুপোর দাম সেভাবে কমে না। বরং বাড়তেই থাকে। তাই Safe Investment হিসাবে সেদিকেই ঝোঁকেন বড় বিনিয়োগকারীরা। অর্থনীতির আরও একটি স্বাভাবিক নিয়ম, যার চাহিদা বেশি, তার দামও বেশি। বিশেষত জোগান যখন সীমিত। ঠিক সেই নিয়ম মেনেই বাড়ছে সোনা-রুপোর দাম। যাঁরা একটু-আধটু খবর রাখেন, তাঁরা ভাল করেই জানেন কীভাবে সোনা দাম বাড়ছে। তবে এবার কার্যত রেকর্ড গড়ল রুপোর দাম। সোমবার এমসিএক্সে (MCX) মার্চ ডেলিভারির সিলভার ফিউচার এক ধাক্কায় ৫ শতাংশ বেড়ে কেজি প্রতি ৩ লক্ষ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। এই প্রথম রুপো ৩ লাখের গণ্ডি ছাড়াল। এদিন দুপুর ১টা ৫৪ মিনিট নাগাদ রুপোর দাম দাঁড়ায় কেজি প্রতি ৩,০৩,৩১৯ টাকা। এর আগের ক্লোজিংয়ের তুলনায় দাম বেড়েছে ১৫,৫৫৭ টাকা, অর্থাৎ ৫.৪১ শতাংশ। একদিনের মধ্যেই রুপো সর্বোচ্চ ৩,০৪,২০০ টাকার রেকর্ড দাম ছুঁয়ে ফেলেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্থানের নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করছে। কোটাক মিউচুয়াল ফান্ডের ফান্ড ম্যানেজার সতীশ দোন্ডাপাতির বক্তব্য, বিশ্ব জুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগ, ডলারের দুর্বলতা এবং শিল্প ও বিনিয়োগ; দুই ক্ষেত্রেই চাহিদা বাড়ার জেরে রুপোর দাম চড়েছে। তাঁর কথায়, সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত ঘটনায় আমেরিকার তরফে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের উপর হঠাৎ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তেও মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়ছে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন-সহ আটটি ইউরোপীয় দেশের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। পরিস্থিতি বদল না হলে জুন মাসের মধ্যে সেই শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এই ঘোষণার পর থেকেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে রুপোর দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট জাস্টিন খু-এর মতে, কেজি প্রতি ৩ লক্ষ টাকা ছোঁয়াটা রুপোর ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তাঁর মতে, এটি শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত। শুধু ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিই নয়। সৌরশক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো ক্ষেত্রেও রুপোর চাহিদা বাড়ছে। সেই কারণে রুপোর ভবিষ্যৎ এখন আরও উজ্জ্বল।
তবে এই চড়া দামের কারণে দাম পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের পরামর্শ, স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারদের ক্ষেত্রে লাভ তুলে নেওয়া যুক্তিযুক্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের উচিত ধৈর্য রাখা। সঠিক সময় দেখে বিনিয়োগ করা।
এনরিচ মানির সিইও পনমুদি আর জানালেন, রুপোর দামে 'ডিপ অ্যাবজর্পশন' দেখা যাচ্ছে। এই ডিপ অ্যাবজর্পশন কী? অর্থনীতির ভাষায় বললে, এটি মূলত বাজারের আচরণ বোঝানোর একটি টার্ম। সহজ করে বললে, কোনও শেয়ার, পণ্য (যেমন সোনা বা রুপো) বা সূচকের দাম হঠাৎ কিছুটা নেমে গেলে সেই কম দামে বিপুল পরিমাণে ক্রেতা বাজারে ঢুকে পড়ে। হু-হু করে কিনতে শুরু করে দেন। এর ফলে দাম আর বেশি নামতে পারে না, বরং আবার উপরে উঠতে শুরু করে। এই ঘটনাকেই বলা হয় ডিপ অ্যাবজর্পশন।
রুপোর ক্ষেত্রে এটি বেশ স্পষ্ট। ৩,০৫,০০০ টাকার উপরে ব্রেকআউট হলে দাম ৩,১৫,০০০ টাকার দিকে যেতে পারে। অন্যদিকে, ২,৯০,০০০ টাকার নীচে নামলে ফের ২,৮৫,০০০ টাকা থেকে আবার রুপো কেনার হিড়িক বাড়তে পারে।
রুপোতে বিনিয়োগ করবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি ধাতু কেনার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতা, স্টোর করা ও পরে বিক্রির ঝামেলা থাকে। সেক্ষেত্রে ইটিএফ জাতীয় অপশনই বেটার। সেখানেই অল্প অল্প বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন। এক কথায়, এই অনিশ্চিত বিশ্ব অর্থনীতিতে রুপো যে ফের বিনিয়োগকারীদের ভরসার জায়গা হয়ে উঠছে, তা বলাই বাহুল্য।