
তিনদিন উপরের দিকে উঠছিল শেয়ারবাজার। তবে আজ আবার নতুন করে তলিয়ে গেল স্টক মার্কেট। আসলে মধ্যপ্রাচ্যের দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে তেল যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একাধিক গ্যাস এবং তেল উত্তোলন কেন্দ্রে শুরু হয়ে গিয়েছে মিসাইল এবং ড্রোম হামলা। যার ফলে বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এ দিন প্রতি ডলার তেলের দাম ১১৩ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। তার ফলেই প্যানিক মোডে চলে গিয়েছে এশিয়ার মার্কেট। পড়তে শুরু করেছে ভারতের শেয়ারবাজারও। বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই ১৯০০ পয়েন্ট তলিয়ে যায় সেনসেক্স। ও দিকে খারাপ হাল নিফটির। এটি ৫৫০ পয়েন্ট নেমে গিয়েছে।
সেনসেক্স এবং নিফটিতে ক্র্যাশ
বৃহস্পতিবার, সপ্তাহের চতুর্থ ট্রেডিং দিনে সেনসেক্স ৭৪,৭৫০ পয়েন্টে শুরু করে। তারপর কয়েক মিনিটেই সেটি ৭৪,৬৮৫-এ নেমে যায়। আর বুধবার এর ক্লোজিং হয়েছিল ৭৬,৭০৪ পয়েন্টে।
একই হাল নিফটিরও। আগের দিনের ক্লোজিং ২৩,৭৭৭ পয়েন্ট থেকে নেমে ২৩,১৯৭ পয়েন্টে দিন শুরু করে এই সূচক। যার ফলে বড় ক্ষতি হয় বিনিয়োগকারীদের।
সারা বিশ্বের শেয়ারবাজারই তলিয়ে গিয়েছে
শুধু ভারত নয়, সারা পৃথিবীর স্টকমার্কেটের হালই আজ খারাপ। কারণ, কাতারের সর্ববৃহৎ এলএনজি প্ল্যান্টে হয়েছে হামলা। তারপরই ১১৩ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। পড়তে শুরু করেছে এশিয়ার মার্কেট।
এ দিন জাপানের নিক্কেই পড়ে যায় ১৫০০-এ পয়েন্টের বেশি। ও দিকে হংকংয়ের হ্যাং স্যাং ৫০০ পয়েন্টের বেশি নেমে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি পড়ে ১.৫০ পয়েন্ট।
কোন কোন স্টকের হাল খারাপ?
এ দিন অধিকাংশ স্টকেরই অবস্থা শোচনীয়। এক্ষেত্রে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ার ৪.৫০ শতাংশ, এল অ্যান্ড টি শেয়ার ৩.৫০ শতাংশ, ইটারনালের শেয়ার ৩ শতাংশ, বাজাজ ফিনান্সের শেয়ার ২.৮০ শতাংস, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ার ২.৭৫ শতাংশ, এশিয়ান পেইন্টের শেয়ার ২.৬০ শতাংশ, কোট্যাক ব্যাঙ্কের শেয়ার ২.৫৬ শতাংশ, এমঅ্যান্ডএম-এর শেয়ার ২.৪০ শতাংশ, আদানি পোর্টসের শেয়ার ২.৩৫ শতাংশ এবং ইন্ডিগোর শেয়ার ২.৩০ শতাংশ পড়ে গিয়েছে।
তাই এমন পরিস্থিতিতে সাবধান হতে হবে। বুঝে শুনে করতে হবে বিনিয়োগ। নইলে বড় ক্ষতি হতে সময় লাগবে না।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি পড়ে আবার স্টক কিনবেন না বা বিনিয়োগ করবেন না। এটি খবর দেওয়ার এবং শিক্ষার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়া নিজেও করুন রিসার্চ। তারপরই স্টকে করুন ইনভেস্ট।