
দেশের অন্যতম বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা Tata Consultancy Services বা TCS। আর সেই কারণেই অনেকে শেয়ারবাজারেও বাজি ধরেন টিসিএস-এর উপর। তাঁরা মনে করেন, এই লার্জক্যাপ স্টকে টাকা লাগালে ভাল লাভ মিলবে। তবে এই স্টকের বর্তমান অবস্থা ভীষণ খারাপ।
শুক্রবারই এর দাম কমে হয়েছে ২৫৮৫ টাকা। যার ফলে বিনিয়োগকারীদের হাল খারাপ হয়ে গিয়েছে। এমনকী সংস্থার মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনও পড়ে গিয়েছে। মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন কমে হয়েছে ৯.৬০ লক্ষ কোটি টাকা। যার ফলে এই দুই দিন আগেও যেই টিসিএস ভারতীয় কোম্পানিদের মধ্যে চতুর্থ স্থানে ছিল, সেটা এখন ষষ্ঠ স্থানে নেমে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে শেয়ারটির দাম অনেকটাই কমে গিয়েছে। এটি অগাস্ট ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ হাই ৪৫৯২ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল। আর এখন সেই স্টকের দাম নেমে গিয়েছে ২৫৮৫ টাকায়। দাম কমেছে ৪৪ শতাংশ।
৫ বছরে জিরো রিটার্ন
শুক্রবারের পর ২২ সেপ্টেম্বরের ২০২০ সালের দামে পৌঁছে গেল টিসিএস-এর শেয়ারের দাম। যার সহজ অর্থ হল ৫ বছর পরে এসেও জিরো রিটার্ন দিয়েছে এই সংস্থার শেয়ার।
যদিও শুধু টিসিএস নয়, বর্তমানে ইনফোসিস থেকে শুরু করে উইপ্রোর দাম পড়েছে অনেকটা। কারণ, এডিআর পড়েছে ১০ শতাংশ। তারপরই শেয়ারবাজারে সমস্যা বাড়ে।
কোথায় চিন্তা?
এআই আসার পর থেকেই খারাপ অবস্থা আইটি স্টকগুলির। ইতিমধ্যেই এআই সংস্থা অ্যানথ্রোপিক দাবি করেছে যে আইটি কোম্পানিগুলি অনেক বেশি টাকা নেয়। তারা কাজ করতেও সময় নেয় বেশি। তারপরই আইটি সংস্থাগুলির ব্যবসার মডেলের উপর প্রশ্ন উঠে যায়।
একটা সময় ভাবা হচ্ছিল যে লিগাল সার্ভিস থেকে শুরু করে ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং কাস্টোমার সাপোর্ট সিস্টেম আপাতত এআই থেকে নিরাপদ থাকবে। যদিও বিষয়টা রাতারাতি বদলে গিয়েছে। আর এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা খুব বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন।
মাখায় রাখতে হবে যে শুক্রবার অনেকটাই পড়ে যায় নিফটি এবং সেনসেক্স। নিফটি তলিয়ে যায় ৩৩৬ পয়েন্ট। আর সেনসেক্সের সূচক নেমে যায় ৮২৬০০ পয়েন্টে। যার ফলে স্টক মার্কেট থেকে ৭ লক্ষ কোটি টাকা ডুবে যায়।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি পড়ে আবার স্টক কিনবেন না বা বিনিয়োগ করবেন না। এটি খবর দেওয়ার এবং শিক্ষার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়া নিজেও করুন রিসার্চ। তারপরই স্টকে করুন ইনভেস্ট।