
দূরপাল্লার ট্রেনে সফর করার সময় জলের বোতল অবশ্যই কিনে থাকবেন আপনি। ভারতীয় রেলের নিজস্ব পানীয় জল ব্র্যান্ড হল রেল নীর। তবে ট্রেনে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জলের বোতল বিক্রি হয়ে থাকে। যার দাম ২০ টাকা। অথচ স্টেশনে বা ট্রেনে রেল নীর জলের বোতল আপনি ১৪ টাকায় পেয়ে যাচ্ছেন কিন্তু এটা কি জানেন যে রেল নীর ছাড়াও অন্য ব্র্যান্ডের জলের বোতলও আপনি এই এক দামেই পেতে পারেন। আসলে ভারতীয় রেলের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা জানলে সহজেই অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার হাত থেকে বাঁচতে পারেন। জেনে নিন কীভাবে।
ট্রেনে বিসলরি কিংবা অন্য কোম্পানির জলের বোতল আপনি রেল নীর জলের বোতলের দামেই পেতে পারেন। জেনে নিন ট্রেনে জলের বোতল নিয়ে কী নিয়ম রয়েছে।
দূরপাল্লার ট্রেনগুলিতে রেলের নিজস্ব রেল নীর ছাড়াও অন্য ব্র্যান্ডের জলের বোতল পাওয়া যায়। তবে এটা কেবলমাত্র সম্ভব তখনই হবে, যখন রেল নীর জল পাওয়া যায় না। বিক্রেতারা ট্রেনে অন্য কোম্পানির জল বিক্রি করতে পারেন না। রেল প্রতিটি জোনের জন্য নির্দিষ্ট কোম্পানি নির্ধারণ করেছে। ওই জোনের জন্য নির্ধারিত কোম্পানি জল বিক্রি করতে পারে। অপরদিকে রেলের নিয়মানুযায়ী, কোনও বিক্রেতা যদি অন্য কোম্পানির জল বিক্রি করে, তাহলে তাকে রেল নীর জলের বোতলের দামেই বিক্রি করতে হবে।
রেল নীরের দাম উল্লেখ করে রেলের নোটিফিকশনে বলা হয়েছে যে IRCTC-র পক্ষ থেকে বাছাই করা ব্র্যান্ডের জলের বোতল ১৪ টাকাতেই বিক্রি করতে হবে। যদি কোনও বিক্রেতা এই দামে বিক্রি না করে, যাত্রীরা এর অভিযোগ ১৩৯-এ ফোন করে করতে পারে। রেল পদক্ষেপ করবে তৎক্ষণাত। প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বরেই ট্রেনে জলের দাম আরও সস্তা হয়ে যায়।
ভারতীয় রেলওয়ের তরফে ঘোষণা করা হয়, এবার থেকে রেল নীরের এক লিটার জলের বোতলের দাম পড়বে ১৪ টাকা। আগে দাম ছিল ১৫ টাকা। ৫০০ মিলিলিটারের জলের বোতলের দাম পড়বে ৯ টাকা। আগে এর দাম ছিল ১০ টাকা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে রেল নীরের নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়াও, আইআরসিটিসি বা রেলওয়ের শর্টলিস্ট করা অন্য ব্রান্ডের জলের বোতল যা রেল স্টেশন চত্বরে বিক্রি হয়, তার সর্বোচ্চ বিক্রয় মূল্যও ১৫ টাকা থেকে কমিয়ে ১৪ টাকা এবং ১০ টাকা থেকে কমিয়ে ৯ টাকা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রেল নীর ভারতীয় রেলওয়ের একটি সিগনেচার পণ্য। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আইআরসিটিসি এই প্যাকেজড পানীয় জল বিক্রি শুরু হয়। ২০০৩ সালে আইআরসিটিসি পশ্চিম দিল্লির নাঙ্গলোইতে প্রথম প্ল্যান্ট তৈরি করে। প্রথমে রাজধানী ও শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনে সুরক্ষিত জল সরবরাহ শুরু হয়। এরপর বাকি ট্রেনেও রেল নীর পরিষেবা শুরু হয়।