
পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ার হিয়ারিংয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন চলছে স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় শুনানিতে আসা ভোটারদের তথ্য যাচাই করছে নির্বাচন কমিশন। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি বেরবে ফাইনাল ভোটার লিস্ট। আর সেই লিস্টে অনেক মানুষের বাদ যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন প্রশ্ন হল, ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে? আর সেই বিষয়টাই জানান হল নিবন্ধটিতে।
যাঁরা শুনানিতে যাননি
SIR প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা বেরনোর পরই তথ্যগত অসঙ্গতি এবং ম্যাপিং না থাকার কারণে ভোটাদের ডাকতে শুরু করে কমিশন। তাঁদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে সঠিক নথি দিলেই অনায়াসে ভোটার তালিকায় থাকবে নাম।
যদিও এই কাজটাই লক্ষ লক্ষ ভোটার করেনি বলে কমিশন সূত্রে খবর। তাঁরা কমিশন ডাকা সত্ত্বেও পৌঁছননি শুনানি কেন্দ্রে। তাঁদের একাধিকবার ডাকা হয়েছে। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। আর এই সব ভোটারদের নাম প্রথমেই বাদ যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যাঁরা ডকুমেন্টস দেখাতে পারেননি
SIR শুনানিতে খালি হাতে গিয়ে কোনও লাভ ছিল না। বরং নিয়ে যেতে হতো কমিশনের বলে দেওয়া ১৩টি ডকুমেন্টসের মধ্যে একটি। তাহলেই ভোটার তালিকায় নাম থাকবে।
আর এই জায়গাতেই অনেক ভোটারের সমস্যা হয়েছে। তাঁদের কাছে কমিশনের বলে দেওয়া ১৩টি নথির মধ্যে একটিও ছিল না। তাই তাঁরা কমিশনের বলে দেওয়া নথির বাইরে থাকা ডকুমেন্ট সাবমিট করেছেন শুনানিতে। আর মনে করা হচ্ছে, এই সব ব্যক্তিদের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে কমিশন।
ভুল তথ্য
স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে একাধিক ভোটারের পেশ করা নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে কমিশনের কাছে। এই যেমন একটি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ভোটারের জন্মের আগেই তাঁর নামে ইস্যু করা হয়েছিল বার্থ সার্টিফিকেট। অন্যদিকে আবার একজনের ১০ থেকে ১২ সন্তান ইত্যাদি। আর এমন পরিস্থিতিতে ভোটারকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাথমিকভাবে নাম বাদ যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া যাঁরা জালি তথ্য দিয়েছেন SIR শুনানিতে, তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তারপর প্রথমত তাঁদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এছাড়া আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কত নাম বাদ যেতে পারে?
SIR খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম। এরপর ৬ লক্ষ ২৫ হাজার নাম বাদ পড়ার হিসাব পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে বেশির ভাগই শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন বলে খবর। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।