
গরম আসতেই প্রতি বছর এসি-র দোকানে হামলে পড়ে ভিড়। অনলাইনেও অর্ডার দিয়ে এসি কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করেন শীতকালে এসি কেনা আদতে লস। কিন্তু বাস্তবতা একেবারে আলাদা। বিশেষ করে আমাদের দেশে শীতকালে এসি কেনা মোটেই ভুল নয়। শীতকালে দেশের একাধিক শহরে বায়ুদূষণ চরমে ওঠে। হাঁসফাঁস অবস্থায় স্বস্তি দিতে পারে এসি রুম। সেই কারণেই বহু ব্র্যান্ড ও খুচরো বিক্রেতারা অফ-সিজনে এসি কেনার পরামর্শ দেন।
এসি-তে ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক
প্রথম ও প্রধান কারণ হল টাকা। গরমকালে এসির চাহিদা থাকে শীর্ষে। তাই এই সময় এয়ার কন্ডিশনার অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। ইনস্টলেশনও সময় বেশি লাগে। শীতকাল ও বসন্তের শুরুতে যখন চাহিদা কম থাকে, তখন ছাড়, এক্সচেঞ্জ, ক্যাশব্যাক এবং স্টক ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে নানা অফার দেয় কোম্পানিগুলি। অনেক ফাইন্যান্স এক্সপার্টরাও শীতকালেই এসি কেনার উপর জোর দেন। কারণ এই সময় বহু খুচরো বিক্রেতা স্টক ক্লিয়ারেন্স করে দেন।
এসি ইনস্টলেশনে সুবিধা
গরমকালে টেকনিশিয়ানরা খুব চাপে থাকেন। তাই এই সময় ইন্সটলেশন স্লট পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। স্লট পাওয়া গেলেও প্রচন্ড হুড়োতাড়ার মধ্যেই এসি ইনস্টলেশন করা হয়, এরফলে ভুলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
উল্টোদিকে শীতকালে এসি ইন্সটলেশন স্লট পাওয়া খুব সহজ। খুব সহজেই প্রথম দিনেই সাধারণত ইন্সটলেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যায়। অফ-সিজনে ইনস্টলেশন করা কিন্তু একটি বাড়তি সুবিধা।
স্যাঁতসেঁতে ভাব এবং দুর্গন্ধ দূর হয়
শীতকালে অনেক বাড়িতে কম সূর্যের আলো ঢোকে। এর মূল কারণ জানলা বন্ধ থাকে। আবার রান্নাঘর বা বাথরুমের আর্দ্রতাও ভিতরে আটকে যায়। এই আর্দ্রতা দেওয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব এবং দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। শীতকালে এসি চালালে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যখনই এসি কেনা হোক, এসির ওয়াটেজ ও ঘরের মাপের হিসাব করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হিসাবে গড়বড় হলে এসি কেনাই ভুল হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।