
পিএফ তোলা মানেই দীর্ঘসূত্রিতা, জটিল নিয়ম আর অফিসে দৌড়ঝাঁপ। এমন অভিযোগ বহুদিনের। এখনও দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ আছেন, যাঁরা এই জটিলতার কারণে নিজেদের প্রাপ্য প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতেই পারছেন না। তবে সেই ছবি এবার বদলাতে চলেছে। সরকার সব প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে এবং কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা (EPFO) একেবারে নতুন রূপে হাজির হতে চলেছে, EPFO 3.0-এর মাধ্যমে।
গত কয়েক মাসে পিএফ তোলার নিয়ম আগের তুলনায় অনেকটাই সহজ হয়েছে। অনলাইনে ভুল সংশোধনের সুবিধা চালু হওয়ায় দাবি নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে। কিন্তু EPFO 3.0 এই পরিবর্তনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। পুরো ব্যবস্থাই হবে আধুনিক, ডিজিটাল এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব।
EPFO 3.0-এ কী কী বড় পরিবর্তন?
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, EPFO এবার কার্যত ব্যাঙ্কের মতো কাজ করবে। এতদিন পিএফ সংক্রান্ত কোনও সমস্যার জন্য সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক EPFO অফিসেই যেতে হত। কিন্তু EPFO 3.0 চালু হলে, দেশের যেকোনও EPFO অফিস থেকেই নিজের কাজ সেরে ফেলা যাবে। বিশেষ করে যাঁরা চাকরির কারণে ঘন ঘন শহর বদলান, তাঁদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।
EPFO-র ওয়েবসাইট ও পোর্টালেও আসছে আমূল পরিবর্তন। পুরো সিস্টেমকে আরও সহজ ও ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে। যুক্ত হচ্ছে AI-ভিত্তিক ভাষা অনুবাদ টুল, যার ফলে ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দি, মারাঠি, তামিল সহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় EPFO-র তথ্য পাওয়া যাবে।
UPI-তেই তুলবেন PF
EPFO 3.0-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল UPI-এর মাধ্যমে PF উত্তোলনের সুবিধা। BHIM অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি পিএফ তহবিল তোলা যাবে। এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। এমনকি ভবিষ্যতে ATM থেকেও পিএফ টাকা তোলার সুযোগ মিলতে পারে।
নিয়ম হল আরও সহজ
আগে পিএফ তোলার জন্য ১৩টি আলাদা কারণ ও নিয়ম ছিল, যা সাধারণ মানুষের কাছে ছিল বেশ বিভ্রান্তিকর। EPFO 3.0-এ সেগুলিকে কমিয়ে আনা হয়েছে মাত্র তিনটি বিভাগে।
অপরিহার্য প্রয়োজন: গুরুতর অসুস্থতা, শিক্ষা ও বিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে পিএফ তোলা যাবে।
আবাসনের প্রয়োজন: বাড়ি কেনা, বাড়ি তৈরি বা গৃহঋণ শোধ করার জন্য পিএফ ব্যবহার করা যাবে।
বিশেষ পরিস্থিতি: চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতিতে এই বিভাগ প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া, আগে শিক্ষা বা বিবাহের জন্য টাকা তুলতে হলে নির্দিষ্ট সময় চাকরি করতে হত। এখন সেই সময়সীমা ১২ মাস কমিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বার এবং বিবাহের জন্য ৫ বার পিএফ তোলার সুযোগ থাকছে।
তাৎক্ষণিক মিলবে ৭৫% টাকা
EPFO 3.0-এর আরেকটি বড় পরিবর্তন হল, সদস্যরা চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পিএফের ৭৫% পর্যন্ত তুলতে পারবেন। বাকি ২৫% অ্যাকাউন্টে থেকে যাবে, যা সুদ পেয়ে ভবিষ্যতের অবসরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদি কেউ এক বছরের বেশি সময় বেকার থাকেন, তাহলে তিনি সম্পূর্ণ অর্থাৎ ১০০% পিএফ ব্যালেন্স তুলতেও পারবেন।
নিজেই সংশোধন করুন ভুল
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে EPFO একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। এখন সদস্যরা নিজেরাই অনলাইনে নাম, জন্মতারিখ, পিতামাতার নাম, বৈবাহিক অবস্থা, চাকরিতে যোগদান ও প্রস্থানের তারিখের মতো সাধারণ ভুল সংশোধন করতে পারবেন, নিয়োগকর্তা বা EPFO-র আলাদা অনুমোদন ছাড়াই।
বর্তমানে EPFO-র প্রায় ৮ কোটি সক্রিয় সদস্য রয়েছেন এবং মোট তহবিলের পরিমাণ প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে শ্রম আইন সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হলে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের তহবিল ব্যবস্থাপনাও EPFO-র আওতায় আসতে পারে।