
160cc bike comparison India: ভারতের বাইকপ্রেমীদের মধ্যে ১৫০-১৬০ সিসি সেগমেন্ট বরাবরই জনপ্রিয়। কম বাজেটে স্পোর্টি লুক, ঠিকঠাক মাইলেজ এবং ভাল পিকআপ; এই তিনটিই মেলে এই সেগমেন্টে। আর সেই কারণেই এই সেগমেন্টে প্রায় বড় কোম্পানির মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা চলে। আপাতত স্ট্রিটফাইটার ক্যাটাগরির মধ্যে ৩টি মডেলের কাটতি বেশি। সেগুলি হল, Yamaha FZ Rave, Bajaj Pulsar N160 এবং TVS Apache RTR 160 2V। ডিজাইন, ইঞ্জিন, ফিচার ও ব্যবহারের দিক থেকে এই তিনটি বাইকের মধ্যে কোনটি বেটার? সেই নিয়েই এই প্রতিবেদন।
ডিজাইন ও স্টাইলিং
Yamaha FZ Rave-এর মডার্ন স্ট্রিটফাইটার ডিজাইন। ফুল-LED প্রোজেক্টর হেডল্যাম্প, ভেন্ট-সহ স্কাল্পটেড ফুয়েল ট্যাঙ্ক এবং কমপ্যাক্ট টেল সেকশন। বেশ ইউনিক লুক। Metallic Black ও Matte Titan; এই দুই রঙে পাওয়া যাবে।
অন্য দিকে Bajaj Pulsar N160-এর ডিজাইনে বড় ভাই N250-এর ছাপ স্পষ্ট। মাসকুলিন বডি লাইন। রোডস্টার স্টাইল। এর ফলে বাইকটিতে একটি প্রিমিয়াম লুক এসেছে। ২০২৪ আপডেটের পর থেকে টপ ভ্যারিয়েন্টে গোল্ডেন কালারের USD ফর্কও দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে TVS Apache RTR 160 2V-তে রেস-ইনস্পায়ার্ড ডিজাইন। কিছুটা হয়তো ডেটেড হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও বেশ টাইমলেসই বলা যায়। ক্লিন বডি লাইন, স্পোর্টি স্ট্যান্স। DRL ডিজাইনটাও বেশ অ্যাগ্রেসিভ।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
Yamaha FZ Rave-এ ১৪৯ সিসি এয়ার-কুলড সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন রয়েছে। ১২.২ bhp পাওয়ার ও ১৩.৩ Nm টর্ক জেনারেট করে। শহরে যাতায়াতে স্মুদ পাওয়ার ডেলিভারি এবং লো-এন্ড টর্ক-ই এর USP।
Bajaj Pulsar N160-এ ১৬৪.৮ সিসি অয়েল-কুলড ইঞ্জিন। এটি ১৫.৬ bhp শক্তি ও ১৪.৬৫ Nm টর্ক দেয়। শহর ও হাইওয়ে; দুই ক্ষেত্রেই ব্যালান্সড পারফরম্যান্স পাবেন।
TVS Apache RTR 160 2V এই সেগমেন্টে পারফরম্যান্সের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে। এর ইঞ্জিন ১৫.৮ bhp পাওয়ার ও ১৩.৮৫ Nm টর্ক জেনারেট করে। ফাস্ট থ্রটল রেসপন্স ও স্পোর্টি ক্যারেক্টারই এই বাইকের বিশেষ আকর্ষণ।
রাইডিং
Yamaha-তে ডেল্টাবক্স ফ্রেম, টেলিস্কোপিক ফর্ক ও মনোশক সাসপেনশন আছে। বেশ ভাল হ্যান্ডলিং। হালকা ওজন হওয়ায় ভিড়, ট্রাফিকে চালানো সহজ।
Pulsar N160-এর টপ ভ্যারিয়েন্টে USD ফর্ক আছে। এই সেগমেন্টে এটা কমই দেখা যায়। এতে স্টেবিলিটি ও কমফোর্ট দুটোই বেটার হয়।
Apache RTR 160 2V-তে ডবল-ক্র্যাডল ফ্রেম রয়েছে। Glide Through Technology (GTT) থাকায় কম গতিতে ক্লাচ ছাড়াই চলে। শহরের ট্রাফিকের জন্য় বেস্ট।
ফিচার্স
Yamaha FZ Rave-এ নেগেটিভ LCD ডিসপ্লে রয়েছে। এছাড়াও ফুল-LED লাইটিং, ডিস্ক ব্রেক এবং সিঙ্গল-চ্যানেল ABS।
Pulsar N160-তে ডিজিটাল ক্লাস্টার, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, তিনটি ABS মোড এবং LED লাইটিং পাবেন।
Apache RTR 160 2V-তে ডিজিটাল ক্লাস্টার, SmartXonnect ব্লুটুথ, তিনটি রাইডিং মোড, GTT এবং উচ্চ ভ্যারিয়েন্টে ডুয়াল-চ্যানেল ABS রয়েছে।
আপনার জন্য কোন বাইকটি পারফেক্ট হবে?
ভাল পিকআপ, হ্যান্ডেলিং চাইলে Apache RTR 160 2V এগিয়ে। ব্যালান্সড পারফরম্যান্স ও প্রিমিয়াম হার্ডওয়্যার চাইলে Pulsar N160 ভাল অপশন। আর স্মুদ রাইড, হালকা ওজন ও রিলায়াবিলিটি চাইলে Yamaha FZ Rave নিতে পারেন।
এই সেগমেন্টে তিনটি বাইকই আলাদা আলাদা ধরনের রাইডারের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে। বাজেট, ব্যবহার ও স্টাইল; এই তিনটি বিষয় বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের।