
অ্যাপলের টপ বসরা কত টাকা মাইনে পান? সংখ্যাটা যে বেশ বড়, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু Exactly কত? সেই বিষয়েই জানবেন এই প্রতিবেদনে। ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রক্সি ফাইলিং পেশ করেছে অ্যাপেল। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (SEC) কাছে জমা দেওয়া ওই নথি থেকেই সংস্থার সিইও টিম কুক-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের পারিশ্রমিকের বিস্তারিত হিসাব রয়েছে। শুধু টিম কুকই নন, অ্যাপলের সিএফও কেভান পারেখ এবং সিওও সবিহ খান; তিনজনেরই বেতন কোটি-কোটি টাকার।
ফাইলিং অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টিম কুকের মোট পারিশ্রমিক দাঁড়িয়েছে ৭৪.৩ মিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৬৬৮ কোটি টাকা। অঙ্কটা চোখে পড়ার মতো হলেও, আগের বছরের তুলনায় তা সামান্য কম। ২০২৪ সালে টিম কুকের মোট পারিশ্রমিক ছিল ৭৪.৬ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬৭১ কোটি টাকা।
এমনিতেই তাঁর জন্য ৫৯ মিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিক স্থির করা হয়েছিল। কিন্তু এবছর অ্যাপেল ভাল পারফর্ম করেছে। তাই বাড়তি বোনাস হিসাবে আরও কয়েক কোটি টাকা টাকা পেয়েছেন।
বিস্তারিত হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালেও টিম কুকের মূল বেতন ছিল ৩০ লক্ষ ডলার, যা ২০১৬ সাল থেকে অপরিবর্তিতই আছে। এর পাশাপাশি ৫৭.৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন স্টক অ্যাওয়ার্ড হিসেবে। নন-ইকুইটি ইনসেনটিভ প্ল্যানের আওতায় তাঁর আয় হয়েছে আরও ১২ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সফরে ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের মতো সুবিধার জন্য ‘অন্যান্য কম্পেনসেশন’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১.৭ মিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, ইদানিং অ্যাপলের শীর্ষস্তরে নেতৃত্ব বদলের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, টিম কুক সংস্থার অভ্যন্তরে জানিয়েছেন, তিনি ধীরে ধীরে নিজের কাজের চাপ কমাতে চান। ভবিষ্যতে তাঁকে অ্যাপলের বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। একই সঙ্গে, সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান জন টার্নাসকে সম্ভাব্য পরবর্তী সিইও হিসেবে ধরা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই শীর্ষ কর্তার আয়ও নজর কেড়েছে। ২০২৫ সালে অ্যাপলের চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সবিহ খানের মোট পারিশ্রমিক দাঁড়িয়েছে ২৭ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০ লক্ষ ডলার ছিল তাঁর মূল বেতন এবং ২২ মিলিয়ন ডলার স্টক অ্যাওয়ার্ড। সিএফও কেভান পারেখ পেয়েছেন মোট ২২.৪ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০১ কোটি টাকা। তাঁর মূল বেতন ছিল ৮ লক্ষ ৯১ হাজার ৫১৯ ডলার এবং স্টক অ্যাওয়ার্ড বাবদ পেয়েছেন ১৮.৪ মিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে, সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের পারিশ্রমিকে অ্যাপলের আর্থিক সাফল্যের ছাপ স্পষ্ট। তবে নেতৃত্ব বদলের সম্ভাবনার মাঝেই এই বিপুল অঙ্কের বেতন ভবিষ্যতে কোন পথে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়া।