
সিগন্যাল ট্রাফিকিং ব্যবস্থা বর্তমানে সব দেশেই চালু রয়েছে। সাধারণত সব দেশের সিগন্যালেই লাল, হলুদ ও সবুজ- এই তিন ধরনের রঙ দেখতে পাওয়া যায়। লাল রঙের অর্থ থামার সংকেত, হলুদ আলো সতর্কতা ও সবুজ সংকেত এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি বোঝায়। কিন্তু জাপানে সিগন্যালের এমন একটি নিয়ম রয়েছে, যা অন্য কোনও দেশে নেই। আসলে জাপানের সিগন্যালে রয়েছে নীল রঙের আলো! কিন্তু কেন?
জাপানের সিগন্যালগুলিতে নীল রঙের আলো থাকার বিশেষ কারণ রয়েছে। রিডার্স ডাইজেস্ট জানাচ্ছে, এই প্রশ্নের উত্তর জাপানি ভাষার ইতিহাসের মধ্যে নিহিত রয়েছে। ভাষাবিদরা জানাচ্ছেন,আগে জাপানিদের মধ্যে খুব সীমিত রঙের শব্দ ব্যবহারের রেওয়াজ ছিল। সেই সময় শুধুমাত্র লাল, কালো, সাদা ও নীল রঙকেই জাপানিরা নিজস্ব ভাষায় ব্যবহার করতেন। অন্য সমস্ত রঙ এই চারটি রঙের মধ্যেই বোঝানো হত।
এই কারণেই সবুজ রঙকে 'আও' হিসেবেই বোঝানো হত। আও শব্দের অর্থ হল নীল। অনেক পরে জাপানি ভাষায় 'মিডোরি' শব্দটির উদ্ভব হয়, যা বিশেষভাবে সবুজ এবং প্রকৃতির জন্য ব্যবহৃত হতে শুরু করে। তবে এরপরেও 'আও' শব্দের ব্যবহার কিন্তু কমেনি।
জাপানের সিগন্যালে নীল আলো এলো কী করে?
জাপানে ট্রাফিক সিগন্যাল চালু হয়েছিল ১৯৩০-এর দশকে। প্রথমদিকে সবুজ আলোকে সবুজই বলা হত। তবে, ১৯৬০ সালে নয়া সড়ক ট্রাফিক আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ আলোকে 'আও' হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। যেহেতু শব্দটি ইতিমধ্যেই জাপানে বহুল প্রচলিত ছিল, তাই নামটি সহজেই গৃহীতও হয়।
কিন্তু আরও পরে পরে, যখন সিগন্যালের সবুজ রঙ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রশ্ন ওঠে, তখন ১৯৭৩ সালে জাপান সরকার মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে। জাপান সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁদের সিগন্যালটি হবে নীলাভ সবুজ রঙের। এটি এগিয়ে যাওয়ার সংকেত হিসেবেই ব্যবহার করা হয়।
জাপানের ট্র্যাফিক লাইট কি সত্যিই নীল?
আসলে জাপানের বেশিরভাগ ট্রাফিক লাইটই আসলে সবুজ রঙের। কিন্তু এই সবুজের রঙ নীলাভও। খালি চোখে এগুলোকে সবুজই দেখায়, কিন্তু জাপানি ভাষায় এই রঙকে 'নীল' বলা হয়।