
হামাগুড়ি থেকে গুটি গুটি পায়ে হাঁটতে শেখা, ছেলেবেলায় হাট্টিমাটিম টিম ছড়া শুনে বড় হয়নি, এমন বাঙালি শিশু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আধুনিক যুগে সুকুমার রায়ের ছড়া নিয়ে তেমন চর্চা না থাকলেও রাতারাতি এই ৪ লাইনের ছড়া Gen Z দের মধ্যে 'ক্রেজ' তৈরি করেছে। 'হাট্টিমাটিম টিম' এখন নেটিজেনদের পছন্দের ট্রেন্ডিং রিল। ইনস্টা, ফেসবুক খুললেই দেখা যাচ্ছে তবলার তালে তালে বেজে ওঠা 'হাট্টিমাটিম টিম' ছড়ায় নাচছেন ৮ থেকে ৮০ সকলেই। কেন আচমকাই ভাইরাল হল এই ছড়া? কে বাজারে তবলার তালে তালে 'হাট্টিমাটিম টিম'?
ভাইরাল ট্রেন্ড
'হাট্টিমাটিম টিম
তারা মাঠে পাড়ে ডিম
তাদের খাঁড়া দু'টো শিং
তারা হাট্টিমাটিম টিম'
সুকুমার রায়ের এই ৪ লাইনের ছড়া এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল রিলে রিলে বাজছে। সঙ্গে রয়েছে তবলার বোল। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটার, কেউই বাদ নেই এই ছড়ার সঙ্গে রিল বানাতে। হঠাৎ করে কেন এই ছড়ার সঙ্গে রিল বানাচ্ছেন তাঁরা? কে বাজাল তবলার তালে তালে 'হাট্টিমাটিম টিম'?
কে বাজাল তবলা?
জানা গিয়েছে, তবলা বাজিয়ে তালে তালে 'হাট্টিমাটিম টিম' ছড়াটি গেয়েছেন রাতুল বসাক নামে জনৈক ব্যক্তি। তিনি জন্মান্ধ। চোখে দেখতে না পেলেও তবলার প্রতিটি তাল কিন্তু নির্ভুল। আর সেই নির্ভুল তালের সঙ্গেই গেয়ে থাকেন নানা ছড়া ও গান। ছোটদের বিনোদনের জন্য সম্প্রতি 'হাট্টিমাটিম টিম' ছড়াটি গেয়ে তবলা বাজিয়েছিলেন। রাতুল এই ছড়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হয়। তারপরের কাহিনি ইতিহাস। রাতারাতি শেয়ার হতে থাকে রাতুলের তবলার তালে বাজানো ছড়া। মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল রিলে পরিণত হয়।
তবে ট্রোলিংও কম হচ্ছে না রাতুল বসাককে নিয়ে। দৃষ্টিহীন এই ব্যক্তির সঙ্গীতচর্চাকে কটাক্ষও করেছেন কেউ কেউ। 'পাবলিসিটি স্টান্ট' বলেও দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। তবে বিশেষ ভাবে সক্ষম রাতুলের কাছে বিষয়টি নতুন নয়। ছোটবেলাতেও তাঁকে বুলি করা হয়েছে বহুবার। তা সত্ত্বেও অদম্য জেদ নিয়ে রাতুল ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ব্লাইন্ড থেকে পাশ করেন তিনি। তাঁরই মতো বিশেষ ভাবে সক্ষম ছেলেমেয়েদের অনুপ্রেরণা জোগাতে সোশ্যাল মিডিয়া মোটিভেশনাল ভিডিও করেন রাতুল। তাঁর তবলা বাজানোর ফ্যান এখন সকলেই।
এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাতুল 'বাবুরাম সাপুরে', 'আমপাতা জোড়া জোড়া' এমনকী 'টুইঙ্কল টুইঙ্কল' ও 'জনি জনি ইয়েস পাপা' ছড়াগুলিও তবলার তালে তালে গেয়েছেন। বহু মানুষ তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এই রিলে কোমর দোলাচ্ছেন বিদেশিরাও।