Advertisement

Motivational Journey: Apple-এর মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে অটো চালাচ্ছেন রাকেশ, বলছেন, 'স্বাধীনতাতেই মনের সুখ'

রাকেশের কথায়, 'প্রথম প্রথম সব কিছু ঠিকই চলছিল। তারপর বুঝতে পারলাম, কোম্পানিতে প্রতিটি মানুষকে স্রেফ ব্যবহার করে ছিবড়ে করে ফেলে দেওয়াহচ্ছে। আমি দেখলাম, অন্যকে খুশি করতে করতেই দিন কেটে যাচ্ছে। নিজেকে ভাল রাখার কথা ভুলেই গিয়েছি। টাকা, লাক্সারি সব রয়েছে, কিন্তু মানসিক সুখ নেই।'

অটোচালক রাকেশঅটোচালক রাকেশ
Aajtak Bangla
  • বেঙ্গা,
  • 04 Apr 2026,
  • अपडेटेड 10:21 AM IST
  • রাকেশকে  NIMHANS-এ চিকিত্‍সা করাতে হয়
  • ১৫ কেজি ওজন কমান
  • রাস্তায় খুঁজে পাওয়া স্বাধীনতা

Apple-এ চাকরি করা যে কোনও তথ্যপ্রযুক্তির কর্মীরই স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্ন ছুঁয়েছিলেন রাকেশ। বিরাট অঙ্কের মাইনে, বিলাসবহুল অফিস। কর্পোরেট দুনিয়ায় ধোপদুরস্ত পোশাকে রোজ অফিস যাওয়া, আসা। কিছু বছর কাজের পরেই প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে রাকেশের। ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, আত্মসম্মানের কোনও জায়গাই নেই কর্পোরেট দুনিয়ায়। একেবারে ক্রীতদাসের মতো কাটছে প্রতিটি দিন। 

রাকেশকে  NIMHANS-এ চিকিত্‍সা করাতে হয়

রাকেশের কথায়, 'প্রথম প্রথম সব কিছু ঠিকই চলছিল। তারপর বুঝতে পারলাম, কোম্পানিতে প্রতিটি মানুষকে স্রেফ ব্যবহার করে ছিবড়ে করে ফেলে দেওয়াহচ্ছে। আমি দেখলাম, অন্যকে খুশি করতে করতেই দিন কেটে যাচ্ছে। নিজেকে ভাল রাখার কথা ভুলেই গিয়েছি। টাকা, লাক্সারি সব রয়েছে, কিন্তু মানসিক সুখ নেই।' শুধু অফিসেই নয়, বাড়িতেও নানা সমস্য়া রাকেশের। দিনভর কাজের চাপ ও টক্সিক প্রেসারে পরিবারি জীবনেও প্রভাব পড়তে শুরু করে। মানসিক চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে রাকেশকে  NIMHANS-এ চিকিত্‍সা করাতে হয়। রাকেশের কথায়, 'একটি সিটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করতাম। একই বিষয় নিয়ে টানা ৭ ঘণ্টা চিন্তা করতাম। মাথা যন্ত্রণা হত। বাড়িতে নিজেকে ধীরে ধীরে একা করে ফেলেছিলাম। স্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলতে ইচ্ছে করত না।'

১৫ কেজি ওজন কমান

শুধুমাত্র ওষুধের ওপর নির্ভরশীল থাকতে রাজি ছিলেন না রাকেশ। তাই তিনি মনোবিজ্ঞানের দিকে ঝুঁকেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি শরীরচর্চার দিকেও জোর দেন। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মাধ্যমে তিনি ১৫ কেজি ওজন কমান। পাশাপাশি মার্শাল আর্টে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসও ফিরে পান। তাঁর এই নিষ্ঠার ফলও মিলেছে। রাজ্যস্তরের একটি প্রতিযোগিতায় তিনি রুপোর পদক জেতেন।

অ্যাপল-এ চাকরির সময়ে ছবি রাকেশের

রাকেশ ছোট-বড় সব ধরনের কাজই গ্রহণ করেছেন। খাবার ডেলিভারি করা, বাইক ট্যাক্সি চালানো থেকে শুরু করে জিমে সহকারী হিসেবে মেঝে ও টয়লেট পরিষ্কার করা। কোনও কাজকেই তিনি ছোট বলে মনে করেননি। প্রতিটি কাজই তাঁকে নতুন করে স্বনির্ভরতা ও আত্মসম্মান ফিরে পেতে সাহায্য করেছে। সেই সঙ্গে শিখিয়েছে বিনয় এবং কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার মানসিক শক্তি।

Advertisement

রাস্তায় খুঁজে পাওয়া স্বাধীনতা

৪ বছরের নিরলস পরিশ্রমের পর এখন রাকেশ বেঙ্গালুরুতে নিজের ইলেকট্রিক অটো চালান। এর পাশাপাশি তিনি নাচ ও ছবি আঁকার মতো নিজের পছন্দের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই যাত্রা দেখায়, প্রকৃত স্বাধীনতা ও সুখ অনেক সময় বেতন বা সামাজিক মর্যাদার বাইরে থাকে, নিজের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া এবং নিজেকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে জীবনের আসল অর্থ।

Read more!
Advertisement
Advertisement