
Indian Defence Weapons: ডিফেন্সের দিক থেকে ভারত বিশ্বের তাবড় দেশের থেকেও এগিয়ে। আন্তর্জাতিক সমীক্ষাই তা বলছে। এর মূল কারণটাই হল এদেশের আধুনিক অস্ত্রভান্ডার। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সংখ্যায় নয়, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত। একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। আসুন, এমনই কয়েকটি শক্তিশালী অস্ত্রের বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার
প্রথমেই রয়েছে পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার সিস্টেম। সোভিয়েত আমলের গ্র্যাড সিস্টেমের বদলে এই পিনাকা ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রথমদিকে এর রেঞ্জ ছিল ৪০ কিলোমিটার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ কিলোমিটার। ভবিষ্যতে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্তও বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।। ভাবুন একবার। ধরুন বর্ধমানে শত্রু আছে। কলকাতা থেকেই তাকে টার্গেট করে রকেট লঞ্চ করা যাবে। আধুনিক রাডার, ইউএভি এবং জিপিএস প্রযুক্তির কারণেই এমনটা সম্ভব হচ্ছে।
ন্যামিকা
এর পরেই রয়েছে ন্যামিকা (NaMiCa)। এটি একটি অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল ক্যারিয়ার। ডিআরডিও-র তৈরি। এতে ‘নাগ’ মিসাইল ব্যবহার করা হয়। কেন? কারণ, সাপ যেমন জলে ডাঙায় দুই জায়গাতেই চলে, এটিও তাই। অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড ও অপটিক্যাল টার্গেটিং সিস্টেমে সজ্জিত। ভারী সাঁজোয়া ট্যাঙ্ক কয়েক সেকেন্ডে ধ্বংস করে দিতে পারে।
বাজপাখির মতো প্রহরায় P-8i
সমুদ্রসীমা রক্ষায় ভারতের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বোয়িং পি-৮আই নজরদারি বিমান। প্রায় ৭,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা রক্ষায় এই বিমান ব্যবহৃত হয়। সাবমেরিন শনাক্ত করা থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার।
দেশ রক্ষায় ভীষ্ম
স্থলযুদ্ধে ভারতের ভরসা T-90 ভীষ্ম ট্যাঙ্ক। রাশিয়ার প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে এতে ভারতীয় ও অন্যান্য দেশের উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। শক্তিশালী কামান, উন্নত বর্ম এবং হাই স্পিড। সব মিলিয়ে এটি অত্যন্ত মারাত্মক অস্ত্র।
INS বিক্রমাদিত্য
নৌবাহিনীর শক্তির অন্যতম প্রতীক আইএনএস বিক্রমাদিত্য। এটি ভারতের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ। একসঙ্গে একাধিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বহন করতে সক্ষম।
ব্রহ্মোস
প্রতিরক্ষা নিয়ে কথা হবে আর ব্রহ্মোস আসবে না? এ আবার হয় নাকি! মিসাইল ব্রহ্মোসের নাম কারও অজানা নয়। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি। সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। শব্দের গতির প্রায় তিনগুণ বেগে লক্ষ্যভেদ করতে পারে। স্থল, জল ও আকাশ; তিন দিক থেকেই লঞ্চ করা যায়। ভবিষ্যতে এর আরও আধুনিক ভার্সান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের কাছে শতাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। ১৯৭৪ সালের 'স্মাইলিং বুদ্ধ' পরীক্ষার মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু। ১৯৯৮ সালে 'অপারেশন শক্তি'-র মাধ্যমে আরও শক্তিশালী পারমাণবিক ক্ষমতার প্রমাণ দেয় ভারত।
সব মিলিয়ে, আধুনিক প্রযুক্তি, শক্তিশালী অস্ত্র এবং কৌশলগত প্রস্তুতির উপর ভর করেই ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই শক্তির গুরুত্ব আরও বাড়ছে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।