
ভারতীয় রেলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হল। দেশের সবচেয়ে আধুনিক এবং প্রিমিয়াম ট্রেন, বন্দে ভারত-এর স্লিপার সংস্করণ, ট্র্যাকে তার দক্ষতা প্রমাণ করেছে। মঙ্গলবার, রাজস্থানের কোটা-নাগদা রেল সেকশনে বন্দে ভারত স্লিপারের একটি উচ্চ-গতির পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, যেখানে ট্রেনটি প্রতি ঘন্টায় ১৮০ কিলোমিটার গতিতে ছুটছিল। রেলওয়ে নিরাপত্তা কমিশনারের (CRS) সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই স্লিপার ট্রেনের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পরীক্ষাটি করা হয়েছিল। এই পরীক্ষাটি কেবল গতি পরীক্ষা করার জন্যই নয়, বরং এত উচ্চ গতিতেও যাত্রীদের যাত্রা যাতে নিরাপদ এবং আরামদায়ক থাকে তা নিশ্চিত করার জন্যও ছিল।
ওয়াটার টেস্ট সবাইকে অবাক করে দিল
এই পরীক্ষার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ট্রেনের ভেতরে পরিচালিত 'ওয়াটার টেস্ট'। রেলওয়ে কর্মকর্তারা ট্রেনের ভেতরে জল ভর্তি একটি গ্লাস রেখে দেখালেন যে ১৮০ কিমি/ঘন্টা গতিতেও কম্পন (Vibration) না থাকার সমান। গ্লাস থেকে এক ফোঁটাও জল পড়েনি। এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে এই নতুন প্রজন্মের ট্রেনটি কেবল দ্রুতগতির নয়, এর সাসপেনশন প্রযুক্তিও বিশ্বমানের।
নতুন বন্দে ভারত স্লিপারটি কেমন?
বন্দে ভারত স্লিপারটি দূরপাল্লার ভ্রমণের জন্য তৈরি। এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এটিকে অন্য যেকোনও ট্রেন থেকে আলাদা করেছে:
কোটা-নাগদা সেকশন কেন?
কোটা-নাগদা সেকশনটি তার সোজা এবং শক্তিশালী ট্র্যাকের জন্য পরিচিত, যা এটিকে উচ্চ-গতির পরীক্ষার জন্য আদর্শ করে তোলে। এখানকার ট্র্যাকগুলি ১৮০-২০০ কিমি/ঘন্টা গতি সহ্য করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই সফল পরীক্ষার পর, আশা করা হচ্ছে যে শীঘ্রই সাধারণ যাত্রীরা এই ট্রেনে রাতের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।
বন্দে ভারত স্লিপারের সফল পরীক্ষা 'মেক ইন ইন্ডিয়া'-এর আরেকটি বড় সাফল্য। এই ট্রেনটি কেবল সময় সাশ্রয় করবে না বরং ভারতীয় রেলকে বিশ্বের সেরা রেল পরিষেবাগুলির মধ্যে স্থান দেবে। ১৮০ কিমি/ঘন্টা গতি এবং ঝাঁকুনিমুক্ত যাত্রা এখন আর ভারতীয়দের জন্য কেবল স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তবতা।