
North Bengal Tourism Back: করোনা অতিমারির পর দুটো বছর মুখ থুবড়ে পড়েছিল গোটা দেশের পর্যটন। তার সঙ্গে পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সও পর্যটনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। যা থেকে মুক্তি মিলছিল না। পর্যটনকেন্দ্রগুলি খুলে গেলেও তা কিছুতেই যেন ছন্দে ফিরছিল না। মাঝে দার্জিলিংয়ে তুষারপাতের সময় গত বছর, পুজোর পর পর্যটন মরশুমে কিছুটা ছন্দ মিললেও তাতেও ক্ষতিপূরণ হয়নি। অবশেষে ২০২২ এ এসে যেন শাপমুক্তি ঘটল। এ বছর পুজোর পর থেকেই যে পর্যটকের ঢল নেমেছিল, তা বছরশেষ হয়ে নতুন বছর পর্যন্ত জারি রয়েছে।
চাহিদা বেড়েছে ট্রেন থেকে বাস এমনকী ডোমেস্টিক উড়ানেও। হোটেলে জায়গা কোনও সময়ই ফাঁকা থাকছে না। পর্যটন শিল্পকে স্বস্তি দিয়ে উড়ান ও হোটেল বুকিং করোনা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে বাগডোগরা দিয়ে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন যেগুলি শুধু শিলিগুড়ি ও ডুয়ার্সে যায়, সেগুলিতে ৩ মাসের বুকিং মিলছে না বহুদিন হল। পাশাপাশি হোটেলগুলিতেও এক-আধটা রুম মিলছে কখনও। বড় দলে আসতে হলে ২-৩ মাস আগে বুকিং না করলে ঘোরা স্থগিত রাখতে হচ্ছে।
ঘরোয়া পর্যটন নতুন মাত্রা পাওয়ার কারণ হিসাবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে একাধিক বিধিনিষেধ এবং সুদীর্ঘ প্রক্রিয়াকেই চিহ্নিত করেছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের একাধিক দেশ এখনও করোনা সংক্রমণ রুখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক ট্রাভেল বুকিং সংস্থার সিইও বিপুল প্রকাশ জানিয়েছেন, ছুটি কাটাতে যাওয়া ঘরোয়া পর্যটকের সংখ্যা করোনা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অনেকটাই ফেরত এসেছে। বছর শেষ এবং ইংরেজি নববর্ষের সূচনায় যার ফল পাচ্ছে উত্তরবঙ্গও। মেকমাই ট্রিপ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সব থেকে বেশি বুকিং করা জায়গার মধ্যে রয়েছে দার্জিলিং এবং গ্যাংটকও। পর্যটকরা অনেকেই দামি হোটেল এবং রিসর্ট ব্যবহার করছেন। যা আগের চেয়ে অনেকটা বেড়েছে।
ডুয়ার্সের চাহিদা অবশ্য তুলনামূলক কম। তবে স্থানীয় হিসেবে অনেকটাই রয়েছে। লাটাগুড়ি, গরুমারা, জলদাপাড়া, শিলিগুড়ি, গজলডোবার চাহিদা রয়েছে। জঙ্গল সাফারি, ক্যাম্পিং, হাইকিং এবং বাইকিং-এর মতো অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম প্রাধান্য পাচ্ছে পর্যটকদের কাছে। সেগুলো মাথায় রেখে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে কালিম্পং, মিরিকের মতো জায়গা।রাজ্যের বাঙালি পর্যটকদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পবাইরের পর্যটকরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন অ্যাডভেঞ্চার টুরিজমে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্রাভেল ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানান, চাহিদা রয়েছে প্রচুর। তবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে কিছুটা ভাঁটা পড়বে। আবার মার্চ থেকে ভ্রমণের চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।