
বিভিন্ন দেশের গল্পে নরখাদকের সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু তাই বলে একবিংশ শতাব্দীতে খোদ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে পাওয়া গেল 'নরখাদক'। চাঞ্চল্যকর এমনই অভিযোগ উঠে এসেছে কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানা এলাকার কুর্শাহাট থেকে। মাংস খাওয়ার লোভে এক ব্যক্তিকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত যুবক ওই এলাকারই বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১০ জানুয়ারি বিকেল ৪টে নাগাদ কুর্শাহাট এলাকার ভোনাথপুরে একটি শ্মশানের থেকে ৫০০ মিটার দূরে পুকুরের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তদন্ত করতে নেমে পুলিশ ফিরদৌস আলম নামে এক যুবককে ১১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে। এরপর ১২ জানুয়ারি তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালত অভিযুক্তকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
সাহেবগঞ্জ থানার ওসি অজিত কুমার bangla.aajtak.in-কে বলেন, "ধৃত যুবক প্রায় সারাদিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকত। তাঁর মাংস খাওয়ার খুব শখ, বাড়িতে বেশি পরিমাণে মাংস পেত না, তাই মানুষকে খুন করেছে।" পুলিশ আধিকারিক জানান, মাংস খাওয়ার লোভে খুনের বিষয়টি ধৃত জেরায় স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, মৃত ব্যক্তি আদতে একজন ভবঘুরে গোছের লোক। সে শশ্মানেই থাকত। এখনও তাঁর নাম পরিচয় কিছু জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত যুবক সারাদিনই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকত। যদিও সে মানসিক বিকারগ্রস্থ এমন কোনও তথ্য এখনও পুলিশ পায়নি। ঘটনার পর প্রায় ৩ দিন কেটে গেলেও এখনও কুর্শাহাটের ভোনাথপুর এলাকায় চাঞ্চল্য কমেনি। দিনহাটার এসডিপিও ধীমান মিত্র সোমবারই জানিয়েছিলেন, পুলিশ বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।
কোচবিহারের এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০০৫-২০০৬ সালের নয়ডায় নিঠারি হত্যাকাণ্ডের কথা। ওই এলাকার মণিন্দর সিং ও তার পরিচারক সুরিন্দরের নাম জড়ায় একের পর এক শিশু, কিশোরী নিখোঁজ এবং পরে নর্দমার পাড় থেকে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায়। যদিও পরে অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়ে যায়।