
Coochbehar Airport News: দীর্ঘ তিন সপ্তাহের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার ফের ডানা মেলল কোচবিহার বিমানবন্দরের পরিষেবা। তবে আকাশে মেঘ কাটলেও দুশ্চিন্তার মেঘ কাটছে না উত্তরবঙ্গের এই সীমান্ত শহরের বাসিন্দাদের মনে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, চলতি মাসে আপাতত সপ্তাহে মাত্র একদিন করেই বিমান চলবে। অথচ গত ৫ মার্চ থেকে প্রতিদিন পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। এই ‘লুকোচুরি’ খেলায় ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রী থেকে ব্যবসায়ী মহল।
এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (AAI) কোচবিহার বিমানবন্দরের আধিকারিক শুভাশিস পাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “বৃহস্পতিবার কোচবিহার বিমানবন্দরে বিমান নেমেছে। ৫ মার্চের পর থেকে প্রতিদিন বিমান চালানোর কথা থাকলেও সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি মাসে তারা সপ্তাহে মাত্র একদিন করেই পরিষেবা দেবে। কবে থেকে ফের প্রতিদিন বিমান চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে এখনও কিছু জানানো হয়নি।”
পরিষেবার এই অনিয়ম সরাসরি প্রভাব ফেলেছে টিকিটের চাহিদায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে কোচবিহারে আসা বিমানে ৯টি আসনের মধ্যে যাত্রী ছিলেন মাত্র ৬ জন। ফেরার পথে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে দাঁড়ায়; মাত্র ৩ জন যাত্রী নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানটি। আসন খালি পড়ে থাকায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে এই রুটের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তবে যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হতে নারাজ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। আধিকারিকদের মতে, পরিষেবা যেহেতু ‘আজ আছে কাল নেই’, এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাই যাত্রীরা ভরসা পাচ্ছেন না। নিয়ম করে প্রতিদিন বিমান চললে যাত্রী সংখ্যা ফের আগের উচ্চতায় পৌঁছবে বলেই তাঁদের বিশ্বাস।
শহরের বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সপ্তাহে মাত্র একদিন বিমান চলছে, তার ওপর যদি একবার বিমান নামার পর তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকে, তবে মানুষ কেন ভরসা করবে? কাজের প্রয়োজনে যাদের কলকাতা যেতে হয়, তারা অনিশ্চয়তার ঝুঁকি নিতে চান না। নিয়মিত পরিষেবা চালু না করলে কোচবিহার বিমানবন্দর কেবল নামেই থেকে যাবে।”
উল্লেখ্য, কোচবিহার থেকে কলকাতা যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে বিমান পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু বারবার যান্ত্রিক গোলযোগ বা সংস্থার অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় কোচবিহারের পর্যটন ও বাণিজ্য ধাক্কা খাচ্ছে। এখন দেখার, চলতি মাসের শেষে সংস্থাটি প্রতিদিন বিমান চালানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কি না।