
Cooch Behar Doctor Controversy: কোচবিহারে এক সরকারি চিকিৎসকের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রকাশ্যে তিনি ঘোষণা করেছেন, কোনও পুলিশ কর্মীর চিকিৎসা তিনি করবেন না। এখানেই থামেননি, জেলা পুলিশের একাধিক আধিকারিকের ছবি ব্যবহার করে তাঁদের কাজকর্ম নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছেন ওই চিকিৎসক। বিষয়টি সামনে আসতেই জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, চার মাস আগে কোচবিহারে ওই চিকিৎসকের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে বড়সড় চুরির ঘটনা ঘটে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি সামাজিক মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে জেলা পুলিশ সুপার সন্দীপ কাররা জানান, চুরির ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে তাঁর বক্তব্য, “একজন সরকারি চিকিৎসক চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে পারেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” এই ঘটনা ঘিরে কোচবিহারে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুকে করা পোস্টে ওই চিকিৎসক লেখেন, কোচবিহারে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোনও কিছুই উদ্ধার করতে পারছে না, কাউকেও গ্রেফতার হয়নি। এমনকি চিকিৎসকদের বাড়িতেও চুরি হলেও পুলিশ নীরব। সেই কারণেই তিনি আউটডোর বা ইন্ডোরে কোনও পুলিশ কর্মীর চিকিৎসা করবেন না বলে ঘোষণা করেন।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, পুলিশের কাজ চোর ধরা, রক্তদান শিবির বা মেলা-খেলায় ব্যস্ত থাকা নয়। পরপর দু’টি পোস্টে এই ধরনের মন্তব্য করায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়। সরকারি চিকিৎসক হয়ে চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ করার ঘোষণা আইনসঙ্গত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই ঘটনায় কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি ডা. সৌরদীপ রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই ধরনের পোস্ট বেআইনি। একজন সিনিয়র সরকারি চিকিৎসক এমন কথা লিখতে পারেন না। ভবিষ্যতে পুলিশ কর্মীদের চিকিৎসা নিয়ে কোনও গাফিলতির অভিযোগ উঠলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য,কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শল্য চিকিৎসা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অসিত চক্রবর্তীর বাড়িতে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর কোচবিহার শহরের মিনা কুমারী চৌপথিতে তাঁর ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা চুরি যায়। পরে ১৮ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানান চিকিৎসক। সেখানে নতুন করে নিজের গাড়িচালক এবং এক মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের নাম যুক্ত করেন। তবে এত কিছুর পরেও তদন্তে কোনও অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
চিকিৎসকের দাবি, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বাড়িতে রাখা টাকা দিনের আলোতেই চুরি হয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে দিলেও কোনও ফল পাওয়া যায়নি। একই সময়ে আরও দু’জন চিকিৎসকের বাড়িতে চুরি হওয়ায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান। তাঁর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বাইরের কেউ কোচবিহারে এসে কাজ করতে আগ্রহী হবেন না।