
ভোটের ময়দানে যখন ধর্মের নামে মেরুকরণের রাজনীতি তুঙ্গে, তখন এক অনন্য সম্প্রীতির ছবি ধরা পড়ল উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে। শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআইএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী শহরজুড়ে এক বিশেষ প্রচার অভিযানে শামিল হলেন। এদিন সকালে তিনি অগ্রসেন রোডের রাম মন্দির এবং বালাজী মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। তবে কেবল পুজো দেওয়াই নয়, দুই মন্দির প্রাঙ্গণ থেকেই সাদা পায়রা উড়িয়ে শহরবাসীর উদ্দেশ্যে শান্তির বার্তা দেন তিনি। বাম শিবিরের এই ‘নরম হিন্দুত্ব’ বা ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান জানানোর কৌশল রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শরদিন্দু বাবু শিলিগুড়িকে ‘মিনি ভারতবর্ষ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, এই শহরে সব ধর্মের ও সব ভাষাভাষীর মানুষ যুগ যুগ ধরে মিলেমিশে রয়েছেন। বামেদের বিরুদ্ধে যে ‘নাস্তিকতা’র তকমা সেঁটে দেওয়া হয়, তার পালটা জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমরা ধর্মবিরোধী নই, বরং ধার্মিক মানুষের প্রতি আমাদের চিরকাল শ্রদ্ধা আছে।” নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য তাঁরা ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন না বলেই দাবি এই বাম প্রার্থীর। তাঁর সাফ কথা, যারা ধর্মের নামে বিভেদ তৈরি করতে চায়, বামপন্থীরা চিরকাল তাদেরই বিরোধী। মন্দির হোক বা মসজিদ— সব জায়গাতেই তাঁর সমান যাতায়াত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রামনবমীর এই পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে শরদিন্দু চক্রবর্তীর এই পদক্ষেপকে ঘিরে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক সমীকরণ কি বদলাবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শহরবাসীর মনে। প্রার্থীর কথায়, ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। শিলিগুড়ির মর্যাদা ও সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে তিনি সমস্ত শহরবাসীকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। চৈত্র শেষের এই রাজনৈতিক গরমে সাদা পায়রা উড়িয়ে শান্তির বার্তা দিয়ে শরদিন্দু কি সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারবেন, এখন সেটাই দেখার। পাহাড়ের তরাই অঞ্চল থেকে সমতলের এই রাজনৈতিক চাঞ্চল্য উত্তরবঙ্গের ভোটের লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।