
হঠাৎ করেই বদলে গিয়েছে বাংলার আবহাওয়া। আর এর মাঝেই প্রকৃতির খামখেয়ালি রূপ দেখছে উত্তরবঙ্গ। একদিকে সমতলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া, অন্যদিকে সান্দাকফুর উচ্চতায় প্রবল তুষারপাত। যা দেখতে দার্জিলিঙের মল রোডে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে।
হাওয়া অফিস বলছে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে নতুন সপ্তাহে বৃষ্টির দাপট বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পাশাপাশি এই জেলাগুলিতে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কম থাকলেও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রার পতন অনুভূত হবে। মালদা ও দুই দিনাজপুরেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এক ধাক্কায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি পারদ পতনের পূর্বাভাস রয়েছে উত্তরের জেলাগুলিতে। পরবর্তী তিনদিনে ফের বাড়বে তাপমাত্রা। তবে সপ্তাহজুড়ে কমবেশি বৃষ্টির দাপট বজায়ই থাকবে উত্তরবঙ্গে। আর এসবের মাঝেই সান্দাকফুতে তুষারপাতের পর পরিষ্কার আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার আংশিক দৃশ্য দেখা যাওয়ায় মল রোডে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। পর্যটকরা আজ মল রোড থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য উপভোগ করছেন। গতকাল সান্দাকফুতে ভারী তুষারপাত হয়েছিল এবং শহর এলাকায় সারাদিন বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আজ সকাল ৮টার দিকে আকাশ পরিষ্কার ছিল, যার ফলে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল। পুরো পর্বতশ্রেণি না হলেও এর তিনটি চূড়া দেখা গেছে।
তবে সকাল ১০টার দিকে এলাকাটি আবার কুয়াশায় ঢেকে যায়। সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস বইছে, কারণ বরফ গলতে শুরু করায় সেই ঠান্ডা বাতাস শহর এলাকার দিকে আসছে। প্রসঙ্গত, শীতের মরসুম পেরিয়ে এ বার গরমের মরসুম পড়তে চলেছে। কিন্তু মার্চের শেষের দিকে সান্দাকফুতে এমন তুষারপাত আবহাওয়ার খামখেয়ালি চরিত্র বলেই মনে করছেন আবহবিদেরা।
প্রসঙ্গত, সমতলে গরমের মরসুম শুরু হতেই পর্যটকেরা ভিড় জমাতে শুরু করেন দার্জিলিং-সহ সিকিমে। কিন্তু পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে গোটা রাজ্যে আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও শিলাবৃষ্টি, ঝড় হচ্ছে। ২৮ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টি চলবে। তার সঙ্গে পাহাড়ের উঁচু এলাকায় চলবে তুষারপাত। প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক দিন ধরেই হালকা থেকে মাঝারি তুষারপাত হচ্ছে। দার্জিলিং প্রশাসন সূত্রে খবর , তুষারপাতের জেরে প্রায় ছয় ইঞ্চি পুরু বরফ জমেছে সান্দাকফু জুড়ে। তুষারপাতের জেরে শতাধিক পর্যটক আটকে রয়েছে সান্দাকফু-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। উত্তর এবং পূর্ব সিকিমেও তুষারপাত চলছে। লাচেন থেকে থাঙ্গু এবং থাঙ্গু থেকে গুরুদোংমার যাওয়ার রাস্তা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ইউমথাং থেকে জ়িরো পয়েন্টের রাস্তাও তুষারপাতের কারণে অচল হয়ে পড়েছে। চুংথাং থেকে লাচুং এবং মঙ্গন যাওয়ার একাধিক রাস্তা খোলা রয়েছে, যদিও হালকা যানবাহন ছাড়া বড় গাড়ি চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।