
Gangarampur Firing Case 2026: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে ঘটে যাওয়া সেই দুর্ধর্ষ গুলিকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ। ঘটনার চার দিনের মাথায় মূল অভিযুক্ত তথা তৃণমূলের এসসি-ওবিসি সেলের টাউন সভাপতি বাবু চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে প্রতিবেশী জেলা মালদার এক গোপন ডেরা থেকে তাঁকে জালে তোলেন তদন্তকারীরা।
গত ২৪ মার্চ রাতে খোদ গঙ্গারামপুর থানার ঢিল ছোড়া দূরত্বে এক দলীয় কর্মীকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছিল এই নেতার বিরুদ্ধে। থানার সামনেই এমন দুঃসাহসিক হামলায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন বাবু, অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে সাধারণ মানুষ।
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে শুরু থেকেই জাল বিছিয়েছিল গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। ইতিপূর্বে বাবুর বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতার করে দফায় দফায় জেরা করা হয়। তাঁদের দেওয়া বয়ান এবং মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই মালদাতে হানা দেয় বিশেষ দল।
শনিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায়। এই হামলার নেপথ্যে পুরনো কোনও শত্রুতা নাকি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে এল, সে ব্যাপারেও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
ভোটের বাদ্যি বাজার ঠিক পরেই শাসকদলের এক নেতার এভাবে গ্রেফতারি নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবির বিষয়টিকে হাতিয়ার করে ময়দানে নামলেও তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব এই নিয়ে বিশেষ মুখ খোলেননি। উত্তরবঙ্গের শান্ত পরিবেশে নির্বাচনের আগে এই ধরণের অপরাধমূলক কাজ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিড়লা-রাজের আভিজাত্য যেমন কলঙ্কহীন থাকতে চায়, তেমনই সুস্থ গণতন্ত্র রক্ষায় এই ধরণের দুষ্কৃতী কার্যকলাপ দমনে পুলিশি সক্রিয়তাকে সাধুবাদ জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।