
প্রকাশ্য রাস্তায় তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই মনোজ প্রসাদ জয়সওয়াল এবং বিশ্বজিৎ কুণ্ডু নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত তথা গঙ্গারামপুর শহর তৃণমূলের এসসি/ওবিসি সেলের সভাপতি বাবু চৌধুরী এখনও পুলিশের জালে ধরা দেয়নি। খাস থানা সংলগ্ন এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকার রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যবসায়িক বিবাদের জেরেই এই প্রাণঘাতী হামলা।
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার জানান, আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী শিবা চৌধুরীর সঙ্গে বাবু চৌধুরীর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক শত্রুতা ছিল। সেই আক্রোশ থেকেই গত মঙ্গলবার গভীর রাতে গঙ্গারামপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় শিবাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
ঘটনার পরেই রক্তাক্ত অবস্থায় শিবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ মনোজ ও গাড়ির চালক বিশ্বজিৎকে পাকড়াও করেছে। তবে মূল পাণ্ডা বাবু চৌধুরী পলাতক হওয়ায় তাঁর খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, খাস থানার অদূরে এইভাবে গুলি চালনার ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অভিযুক্ত বাবু চৌধুরী শাসকদলের একটি শাখার সভাপতি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েনও শুরু হয়েছে। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আইন আইনের পথেই চলবে, দোষী যেই হোক তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। আপাতত থমথমে গঙ্গারামপুর শহর, শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত ক্ষোভের আগুন যে পুরোপুরি নিভবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন আক্রান্তের পরিজনরা