
Jalpaiguri Medical College: জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ফের চাঞ্চল্য। শনিবার শিশুর কাটা মাথা মুখে নিয়ে কুকুরের ছোটাছুটির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন আবার এক কুকুরকে রক্তমাখা দেহাংশ নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়। চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে কুকুরটি মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে ফাঁকা জায়গায় ওই দেহাংশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে দেহাংশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পরপর দু’দিন পরপর একই ধরনের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কী বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ?
জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজের এমএসভিপি (MSVP) ডা. কল্যাণ খান বলেন, “রবিবার একটি কুকুর দেহাংশ নিয়ে ঘোরাঘুরি করেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, শনিবার কুকুরটি রাস্তার দিক থেকে কিছু একটা মুখে নিয়ে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবের দিকে গিয়েছিল। দু’দিনের ঘটনাই বিস্তারিত ভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শনিবারের ঘটনায় কী হয়েছিল?
শনিবার বিকেলে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ চত্বরে একটি কালো রঙের কুকুরকে শিশুর কাটা মাথা মুখে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। রোগীর পরিজনদের চিৎকার ও তাড়ায় কুকুরটি মাথাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল চত্বরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
শিশুটির মাথা কোথা থেকে এল, দেহের বাকি অংশ কোথায়, এই প্রশ্ন ঘিরে পুলিশ শনিবার থেকেই তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, পাশাপাশি রোগীর পরিজনদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে।
ফের রহস্যজনক দেহাংশ উদ্ধার
শনিবারের ঘটনার পর অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, শিশুটির দেহের অন্য অংশ আশপাশেই থাকতে পারে। রবিবার সকালে সেই আশঙ্কাই আরও জোরালো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধূসর রঙের একটি কুকুর রক্তমাখা দেহাংশ মুখে নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে ছোটাছুটি করছিল।
এক রোগীর আত্মীয় সংবাদমাধ্য়মকে জানান, “শনিবার আমরা দেখেছিলাম হাসপাতালের আবর্জনা ফেলার জায়গার দিক থেকে কালো কুকুরটি শিশুর মাথা নিয়ে আসছে। মনে হয়েছিল সেটা কোনও অপরিণত শিশুর মাথা। যাই হোক, হাসপাতাল চত্বরে এভাবে কুকুর দেহাংশ নিয়ে ঘুরে বেড়ানো কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নজরদারি ঠিক থাকলে এমন ঘটনা বারবার ঘটতে পারে না। এদিনের ঘটনাতে একই কুকুর কি না, তা অবশ্য কেউ জোর দিয়ে বলতে পারেনি। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মর্গ সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকার দিকে তাকিয়ে এখন সবাই।