
প্রযুক্তির হাত ধরে যখন দূরত্বের দেওয়াল ঘুচছে, তখন সেই ভিডিও কলেই বাবা-মায়ের চোখের সামনে নিভে গেল এক তরতাজা প্রাণ। কালিয়াচকের শ্রীরামপুর গ্রামে এক ২০ বছরের যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় শিউরে উঠছে গোটা জেলা। রবিবার গভীর রাতে নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে জীবন শেষ করে দিলেন আব্দুল জব্বর নামে ওই যুবক। অভাবের সংসারে বাবা বিড়ি শ্রমিকের কাজ করেন, ছেলেও হাত লাগাতেন সেই কাজে। কিন্তু সেই হাড়ভাঙা খাটুনির মাঝে কোন অবসাদ আব্দুলকে এমন চরম পথে ঠেলে দিল, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত কালিয়াচক থানার পুলিশও।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে বাড়ির কাছে শেখপুরা মাঠে গিয়েছিলেন আব্দুল। ফাঁকা মাঠে বসে হঠাৎই ভিডিও কল করেন বাবা-মাকে। ওপাশে যখন আদরের সন্তানের মুখ দেখছেন পরিজনেরা, তখনই আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে নিজের মাথায় ঠেকান ওই যুবক। চোখের পলক ফেলার আগেই গর্জে ওঠে মারণাস্ত্র। আর্তনাদ করে ওঠেন বাবা-মা। ভিডিও কলেই রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেকে লুটিয়ে পড়তে দেখে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে মাঠে ছোটেন তাঁরা। পড়শিদের সহযোগিতায় আব্দুলকে উদ্ধার করে দ্রুত মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সোমবার সকালে মালদহ মেডিক্যালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শোকাতুর পরিবারের সদস্যরা। পেশায় বিড়ি শ্রমিক এই যুবকের কাছে কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এল এবং কেনই বা তিনি বাবা-মাকে ভিডিও কলে রেখে এই কাণ্ড ঘটালেন, তা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। ওই আগ্নেয়াস্ত্রটির উৎস খুঁজে বের করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বয়ান এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কালিয়াচকের মতো এলাকায় সাধারণ যুবকের হাতে এভাবে অস্ত্র চলে আসা নিয়ে নিরাপত্তা বিষয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আপাতত এই শোকাবহ ঘটনায় শ্রীরামপুর গ্রামে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।