
Malda Old Woman Tortured By Son: ছেলে ও বৌমার লাগাতার নির্যাতনে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন এক প্রৌঢ়া। কখনও মাথার চুল কেটে দেওয়া, কখনও আবার গরম খুন্তির ছেঁকা, দীর্ঘদিন ধরে এই অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করছিলেন তিনি। শেষমেশ বৃহস্পতিবার রাতে লাঠিপেটা করে তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও বৌমার বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রৌঢ়াকে ভর্তি করানো হয়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতের নাম ফুলকুমারী মল্লিক (৫৭)। বাড়ি ইংরেজবাজার থানার নয়ঘর কলোনি বাগানপাড়া এলাকায়। স্বামী পরিমল মল্লিক ভিন রাজ্যে কাজ করেন। পৈত্রিক বাড়িতে ছেলে বিক্রম মল্লিক ও বৌমা উত্তরা মল্লিককে নিয়ে থাকতেন ফুলকুমারী। এই ঘটনায় ছেলে-বৌমা-সহ চার জনের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পরিবার ও আত্মীয়দের দাবি, কয়েক দিন আগে ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওই বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, শ্বশুর-শাশুড়িকে স্থায়ীভাবে বাড়িতে রাখার পরিকল্পনা করেই মায়ের উপর নির্যাতন চালাতে শুরু করেন ছেলে ও বৌমা। প্রায় প্রতিদিন মারধর, গরম জল ঢেলে দেওয়া, গরম খুন্তির ছেঁকা দেওয়ার মতো অমানবিক আচরণ চলছিল।
নির্যাতিতার বোন প্রতিমা শেঠ জানান, গত দু’দিন ধরে অত্যাচারের মাত্রা চরমে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে পায়ে পা লাগিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় ফুলকুমারীকে। সেই সময় ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় ফুলকুমারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল থেকে প্রৌঢ়া জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের উসকানিতেই ছেলে তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়াতে চাইছিল। সম্পত্তির দখল নেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ‘‘স্বামী বাইরে থাকেন। কিছুই জানতেন না। পুলিশের কাছে আবেদন করেছি, আমার অধিকার যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’’
যদিও অভিযুক্ত বিক্রম ও উত্তরা পাল্টা দাবি করেছেন, তাঁরাই নাকি আক্রান্ত এবং তাঁদের দিকে ইট ছোড়া হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চার জন পলাতক। তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রৌঢ়া সুস্থ হলে তাঁকে নিরাপত্তার সঙ্গে বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।