
Malda Drone Arrest: শনিবার সামসীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার শেষে তাঁর হেলিকপ্টারের একদম কাছে হঠাৎই একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার এমন ‘ছিদ্র’ দেখে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি নিজেই। তৎক্ষণাৎ কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ আসতেই পুলিশি তৎপরতায় ড্রোন-সহ তিন যুবককে পাকড়াও করা হয়েছে। রবিবারই ধৃতদের চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। কড়া নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, সেই উত্তরই এখন খুঁজছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম অঙ্কিত কুমার পাসোয়ান, শ্রীকান্ত মণ্ডল এবং নুর আক্তার। ধৃত তিনজনেই বিহারের কাটিহার জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হরিশচন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রার্থী মতিউর রহমানের সমর্থনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে তারা এসেছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, অতি-উচ্চ নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও কার অনুমতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে ভিভিআইপি জোনে তারা ড্রোন ওড়াল? এর নেপথ্যে কোনও নাশকতার ছক বা গভীর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
শনিবার মালদায় মালতিপুরে সভা শেষ করে পরবর্তী গন্তব্যে রওনা হওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে উঠতে যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সেই সময়েই তাঁর হেলিকপ্টারের আশপাশে চক্কর কাটতে দেখা যায় একটি রহস্যময় ড্রোনকে।কপ্টারে ওঠার মুখে ড্রোন দেখেই নজর পড়ে মমতার। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সিঁড়িতে দাঁড়িয়েই বলেন, 'হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়ে যেতে পারত।' কোথায় থেকে ড্রোনটি এল এবং কে ওড়াচ্ছে সেটি, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন তিনি। ড্রোনটির গতিবিধি রহস্যজনক মনে করেছেন নেত্রী নিরাপত্তারক্ষীরাও।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কপ্টারের মাথার উপরে একটি ড্রোনকে উড়তে দেখেন নেত্রী। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে তিনি জানতে চান, এই ড্রোন কেন উড়ছে? মাইক হাতে নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশের এটা নজরে রাখা দরকার। যারা করেছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’ এমন বার্তা পেয়ে হুলস্থূল শুরু হয়ে যায়।