
Heritage Town Coochbehar: পশ্চিমবঙ্গ সরকার নবদ্বীপ ও কোচবিহার, এই দুই ঐতিহাসিক শহরকে ‘হেরিটেজ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। হেরিটেজ কমিশনের উদ্যোগে এবার কোচবিহারও নবদ্বীপের মতো মডেল টাউন রূপে সাজানো হবে। প্রধান লক্ষ্য, শহরের ঐতিহ্য রক্ষা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের আরও বেশি আকর্ষণ করা। শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির উদ্বোধনের সময় মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, কোচবিহারকে হেরিটেজ টাউন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
নবদ্বীপ ও কোচবিহার দুটিই এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘হেরিটেজ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। নবদ্বীপ শ্রী চৈতন্যদেবের জন্মস্থান, এককালে যাকে বলা হত প্রাচ্যের অক্সফোর্ড।
অন্যদিকে কোচবিহার হল ঊনবিংশ শতাব্দীতে তৈরি জার্মান টাউন প্ল্যানিং-এর উদাহরণ, একটি সুপরিকল্পিত রাজকীয় শহর।
সরকার ইতিমধ্যে দুই শহরে হেরিটেজ কাঠামো চিহ্নিত করেছে। নবদ্বীপে ৮৬টি এবং কোচবিহারে ১৫৫টি। এই সব স্থাপত্য টিকিয়ে রাখতে বিশেষ সংরক্ষণ প্রকল্প নেওয়া হবে। পুরনো মন্দির, প্রাসাদ, পথ, স্মৃতিস্তম্ভ সবই নতুন রূপে সংরক্ষিত হবে।
হোর্ডিং বন্ধ, গ্রাফিতি নিয়ন্ত্রণ
শহরের সৌন্দর্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিজ্ঞাপনের বিশাল হোর্ডিং নিষিদ্ধ। দেয়ালজুড়ে রাজনৈতিক বা রঙিন গ্রাফিতি নিয়ন্ত্রণ। নির্দেশিকা অনুযায়ী ইউনিফর্ম সাইনবোর্ড চালু করা হবে। এর ফলে শহরের চেহারা আরও পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় হবে।
পর্যটনে বড় সম্ভাবনা, বাড়বে আয়ের সুযোগ
এই বৃহত্তর পরিকল্পনার ফলে স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন আর্থিক সুযোগ তৈরি হতে পারে। গাইডেড ট্যুর, হেরিটেজ রুট, স্থানীয় হস্তশিল্প বাজার এসবের মাধ্যমে পর্যটন বাড়বে। হোটেল-লজিং ও রেস্তোরাঁ শিল্পেও উন্নতি আশা করছে প্রশাসন।
IIT খড়গপুরের বিশেষজ্ঞরা তৈরি করছেন পরিকল্পনা
বিশেষ করে কোচবিহারের জন্য একটি বিস্তারিত মাস্টার প্ল্যান তৈরি করছেন IIT খড়গপুরের বিশেষজ্ঞরা। শহরের যে সব অংশ ঐতিহ্যবাহী সেগুলির মানচিত্র, স্থাপত্য, ঐতিহাসিক মূল্য সবকিছু মিলিয়ে আধুনিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
দুটি নতুন মিউজিয়াম তৈরি হবে
নবদ্বীপ ও কোচবিহারে দুটি স্বতন্ত্র মিউজিয়াম গড়ে তোলা হবে। এই মিউজিয়ামগুলোকে সরকারি ভাবে হেরিটেজ ঘোষিত করা হবে। এতে স্থানীয় ইতিহাস, মন্দির-সংস্কৃতি, রাজবাড়ির ঐতিহ্য এবং প্রাচীন দলিল সংরক্ষণ করা হবে।
পুকুর সংষ্কার
কোচবিহারে আছে প্রায় ৩৮টি ঐতিহ্যবাহী পুকুর। এগুলিকে পুনর্গঠন ও সৌন্দর্যায়ন করা হবে। নবদ্বীপেও নদী ও পুকুর এলাকার উন্নয়ন করা হবে, যাতে পর্যটকরা জলভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশও উপভোগ করতে পারেন।
নবদ্বীপের পরিকল্পনার মডেল অনুসরণ করে এবার কোচবিহারকেও একইভাবে সাজাতে চলেছে রাজ্য সরকার। এর ফলে দুই শহর নতুন পরিচয় পাবে ঐতিহ্যের শহর হিসেবে। পাশাপাশি বাড়বে পর্যটন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নতি।