
ঠিক যেন দুই বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি। দু'বছর আগে মোবাইল সারিয়ে না দেওয়ার এক দশম শ্রেণির ছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছিল। এবার প্রসঙ্গ আলাদা, কিন্তু একই ফলাফল একই। সরস্বতী পুজোর আনন্দানুষ্ঠান পর্যবসিত হল বিষাদানুষ্ঠানে। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে এক দশম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে শহরজুড়ে। পুজোর দিনে এমন ঘটনা, আর তা সামান্য বিষয়কে ঘিরে এত বড় বিপর্যয় মেনে নিতে পারছেন না পরিবার থেকে যাঁরা কিশোরীকে বড় হয়ে উঠতে দেখেছেন, তাঁরা কেউই। প্রতিবেশীরাও হতভম্ব ঘটনার আকস্মিকতায়।
জানা গিয়েছে মৃত ছাত্রীর নাম কোয়েল শর্মা (১৪)। ধূপগুড়ির গাদং হাইস্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ত সে। বুধবার সকাল থেকেই সরস্বতী পুজো নিয়ে ব্যস্ত ছিল। স্কুলের পুজোয় অংশও নেয়। পরে দুপুরে বাড়িতে ফিরে আসে। এদিন সকালেও বান্ধবীদের সঙ্গে বেশ খোশমেজাজেই ঘুরতে গিয়েছিল সে। কিন্তু সন্ধ্যায় গ্রামে সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে ফের ।যাওয়ার বায়না ধরলে তার মা রাতে বাড়ির বাইরে যেতে দিতে বাধা দেয়।
জানা গিয়েছে এরপরই ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় সে। অনেক ডাকাডাকি করলেও উত্তর না মেলায় ভাঙা হয় দরজা। তারপর সেখানেই তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের লোকজন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ধূপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ওই নাবালিকাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দু'বছর আগে ২০২২ সালে খারাপ হয়ে যাওয়া মোবাইল ঠিক করে না দেওয়ায় অভিমানে আত্মঘাতী হয়েছিল দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। ধূপগুড়িরই ডাউকিমারি এলাকায়। মৃতার নাম অমৃতা সরকার (১৪)। ডাউকিমারি ডি এন হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। সেই সময় জানা গিয়েছিল, পাঁচ দিন ধরে খারাপ থাকার পরও অমৃতার মোবাইল সারিয়ে দিতে পারেনি বাবা-মা। জানা গিয়েছিল, মোবাইলটি ঠিক করে দেওয়ার জন্য বাবা-মাকে বার বার অনুরোধ করে সে। কিন্তু অর্থের অভাবে মোবাইল ঠিক করে দিতে পারেননি অমৃতার বাবা-মা। সেই কারণেই মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হয় সে। এমনটাই দাবি করেছিলেন পরিবারের সদস্যদের। বাড়িতে কেউ না থাকায় সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে বলে জানা যায়।
ঠিক ২ বছর পর একইভাবে একই ক্লাসের ছাত্রীর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা পুরনো ঘটনাকে মনে করিয়ে দিয়েছে এলাকাবাসীকে। যা হঠাৎই চর্চায় উঠে এসেছে কোয়েলের মৃত্যুর ঘটনায়।