Advertisement

Siliguri Assmebly Election Goutam Vs Shankar: গৌতম দেবের 'এবার না হলে Never', শিলিগুড়ি আসনে টিকিট চান, হারলে কেরিয়ার ইতি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহরকেন্দ্রিক আসন হিসেবে শিলিগুড়িতে সংগঠন, পুর প্রশাসন ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। দীর্ঘদিনের সক্রিয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং পুর প্রশাসনে দায়িত্বে থাকার কারণে শহুরে ভোটব্যাঙ্কে নিজের প্রভাব কাজে লাগাতেই এই কৌশল, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

হারা আসন ছেড়ে ঘরে ফিরছেন গৌতম, হারলে কি কেরিয়ার শেষ! শঙ্করকে হারাতে পারবেন?হারা আসন ছেড়ে ঘরে ফিরছেন গৌতম, হারলে কি কেরিয়ার শেষ! শঙ্করকে হারাতে পারবেন?
সংগ্রাম সিংহরায়
  • শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি,
  • 23 Feb 2026,
  • अपडेटेड 4:53 PM IST

শিলিগুড়ি আসনে লড়াই জমজমাট হতে চলেছে। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির পরিবর্তে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্ক আরও জটিল করলেন গৌতম দেব। দল এখনও আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করলেও, নিজেই কেন্দ্র বেছে নেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। পাহাড়-তরাই রাজনীতিতে এই ঘোষণাকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহরকেন্দ্রিক আসন হিসেবে শিলিগুড়িতে সংগঠন, পুর প্রশাসন ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। দীর্ঘদিনের সক্রিয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং পুর প্রশাসনে দায়িত্বে থাকার কারণে শহুরে ভোটব্যাঙ্কে নিজের প্রভাব কাজে লাগাতেই এই কৌশল, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তবে সরাসরি লড়াই হবে বর্তমান বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে, যিনি গতবার শক্ত ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন।

ভোটের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি কেন্দ্রে শঙ্কর ঘোষ প্রায় ৩৬ হাজারের বেশি ভোট পান। তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে গৌতম দেব পান প্রায় ৬০ হাজারের কিছু বেশি ভোট। ব্যবধান ছিল আনুমানিক ২০ হাজারের কাছাকাছি। অন্যদিকে, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে গৌতম দেব প্রায় ২৮ হাজারের কিছু বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন বলে নির্বাচনী তথ্য বলছে। ফলে দুই কেন্দ্রেই তাঁর অতীত ফলাফল খুব উজ্জ্বল ছিল না।

আরও পড়ুন

এবার প্রশ্ন জয়ের সম্ভাবনা কতটা? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শিলিগুড়িতে তৃণমূলের ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী হলেও বিজেপির নগর ভোটব্যাঙ্ক এখনও প্রভাবশালী। পাহাড় সংলগ্ন এলাকার ভোট, ব্যবসায়ী মহলের সমর্থন এবং নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত ইস্যু। এসবই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে। সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ে ব্যবধান কমানোর কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে তৃণমূল শিবির।

মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব নিজে জানিয়েছেন, মানুষ আমাকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে বাতিল করেছেন, তাই, মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়ে আমি এখানে দাঁড়াচ্ছি না। নিজের জন্মস্থান শিলিগিুড়ি থেকেই দাঁড়াব।' অন্যদিকে, শিলিগুড়ির বর্তমান বিধায়ক ও বিরোধী নেতা শঙ্কর ঘোষ এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ভোটের অঙ্ক বুঝেই কেন্দ্র বদল। মানুষ সব দেখছেন। উন্নয়ন ও স্বচ্ছ রাজনীতির উপরই শিলিগুড়ির মানুষ ভোট দেন।” তিনি আরও দাবি করেছেন, গত নির্বাচনে মানুষ বিজেপির পক্ষেই স্পষ্ট মত দিয়েছেন, ভবিষ্যতেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

Advertisement

তবে রাজনৈতিক ঝুঁকিও কম নয়। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, যদি শিলিগুড়িতে ফল অনুকূলে না আসে, তা হলে গৌতম দেবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এমনকি মেয়র পদ নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। হারের দায় এলে তাঁকে পুরসভার দায়িত্ব ছাড়তে হতে পারে বলেও দলীয় অন্দরে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য মেলেনি। তবে গতবার কাউন্সিলর হিসেবে জিতে যাওয়ায় তিনি রাজনীতিতে টিঁকে গিয়েছিলেন। এবারও বিধানসভায় আসন বদলেও যদি জয় না আসে তাহলে সমস্য়া বাড়বে বর্ষীয়ান নেতার। সেটা তিনিও ভাল করেই জানেন।

বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, “কেন্দ্র বদল মানেই আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি।” অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, “এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, শহরের উন্নয়নের স্বার্থেই এই লড়াই।” রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট। শিলিগুড়িতে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement