
Siliguri School Girl Suicide: স্কুলে মারধর ও অপমানের অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য দার্জিলিং জেলার মাটিগাড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে মানসিক নির্যাতনের পরই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী। মৃত কিশোরীর নাম প্রিয়া রায় (১৪)। ঘটনাটি ঘটেছে মাটিগাড়া থানার অন্তর্গত এলাকায়।
প্রিয়ার মা সুনীতা বর্মন মাটিগাড়া থানায় মাটিগাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে থানার সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের আশ্বাসে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কী অভিযোগ পরিবারের?
মৃত ছাত্রীর দাদুর অভিযোগ, শনিবার নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য স্কুলে গিয়েছিল প্রিয়া। কিন্তু তাকে ভর্তি না নিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে অপমান করা হয়। বাড়িতে ফিরে এসে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ওই কিশোরী এবং তার পরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ পরিবারের। পরিবারের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মায়ের অভিযোগ আরও গুরুতর
প্রিয়ার মা সুনীতা বর্মনের দাবি, অষ্টম শ্রেণি পাশ করার জন্য প্রয়োজনীয় নম্বর পেয়েই নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিল তার মেয়ে। শনিবারও সে ভর্তির জন্য স্কুলে গিয়েছিল। সেখানে প্রধান শিক্ষিকা দেবযানী বর্ধন ভর্তি নিতে অস্বীকার করেন। অভিযোগ, মেয়েকে বকাঝকা করা হয় এবং মারধরও করা হয়। অন্যদের সামনে অপমান করার কারণেই প্রিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বলে দাবি পরিবারের।
স্কুল কর্তৃপক্ষের পাল্টা বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাটিগাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দেবযানী বর্ধন। তাঁর দাবি, ওই ছাত্রীকে কোনও মারধর করা হয়নি। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রিয়া মাকে সঙ্গে নিয়ে ভর্তি হতে এসেছিল। তখন তার মার্কশিটে নম্বরের কাটাকুটি থাকায় ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়।
শনিবার ফের ভর্তি হতে এলে অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল মাত্র। কোনও রকম শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
তদন্তে পুলিশ
ছাত্রীর মৃত্যুর পর মাটিগাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যদিও পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে চায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
মৃত কিশোরীর দেহ উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।