
ফের ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হল বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। জানা গিয়েছে মৃতের নাম আমাই মাঝি, বয়স ২৮ বছর। মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গাম্ভীরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের দুর্গাপুজোর সময় জীবিকার তাগিদে চেন্নাইয়ের কাছে তাম্বারাম এলাকায় বহুতল নির্মাণের কাজে রাজমিস্ত্রি হিসেবে যোগ দেন আমাই। সোমবার ১২ জানুয়ারি বিকেলে সেখানেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। যদিও পরিবারের দাবি, এটি মোটেই স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। আমাইকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ময়নাতদন্তের পর তাঁর দেহ মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।
আমাইয়ের অকালমৃত্যুতে কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী এবং তিন নাবালক সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন আমাই। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন আত্মীয়রা।
পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, চেন্নাইতে আমাই যেখানে কাজ করতেন, সেখানে সুতি থানা এলাকার আরও বেশ কয়েকজন যুবক পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সোমবার রাতে তাঁদের কাছ থেকেই আমাইয়ের মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য তাঁরা পাননি।
মৃতের বৌদি মাধবী মাঝি বলেন, "আমাই খুবই ভালো ছেলে ছিল। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্যই সে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছিল। আমাদের দৃঢ় সন্দেহ, ওকে খুন করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটি চলে যাওয়ায় ওর স্ত্রী আর তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকার।"
হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রাখি রবিদাসের স্বামী তথা প্রধানের প্রতিনিধি সঞ্জয় রবিদাস বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে বারবার দেখা যাচ্ছে, ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। কয়েকজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। আমাদের সন্দেহ, আমাইয়ের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটেছে। দেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। বিষয়টি ইতিমধ্যেই জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানকে জানানো হয়েছে।"
এ বিষয়ে সুতি ১ নম্বর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সেরাজুল ইসলাম বলেন, "আমাদের বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস পরিবারের পাশে আছেন। আমরাও এই পরিবারের পাশে আছি।" এ বিষয়ে কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস বলেন, "ঘটনার কথা আমি শুনেছি। রাজ্য সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেস সবরকমভাবে এই দুঃস্থ পরিবারের পাশে থাকবে।"
-সব্যসাচী ব্যানার্জি