
অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের এক সময়ের 'বেতাজ বাদশা'। সেই অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে মুকুল রায়ের সুসম্পর্কের কথা সবার জানা। দলের এক সময়ের সেকেন্ড ইন কমান্ডের স্মৃতিচারণা করতে দিয়ে আবেগপ্রবণ 'কেষ্ট'। বললেন, 'দাদাকে হারালাম। আমার সঙ্গে তো পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। দল ছাড়ার কারণে রাগ-অভিমান হয়েছিল খুব।'
অনুব্রত বলে চলেন, 'মুকুল রায়ের সঙ্গে আমার পরিচয় তো আজকের নয়। সেই ১৯৯৮ সালের আগে থেকে। তখন রাজ্যে বাম শাসন। সিপিএম খুব অত্যাচার করত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার প্রতিবাদে রুখে দাঁড়াতেন। মমতাদির সঙ্গে থাকত মুকুল রায়। তখন থেকে চিনি। বহু আন্দোলনের, প্রতিবাদের সাক্ষী। এত ঘটনা আছে যে বলে শেষ করা যাবে না। ছোটো-বড় কত যে ঘটনা। রাজনৈতিক সম্পর্ক আমাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কে পরিণত হয়েছিল। যখনই দল বা সংগঠন নিয়ে কোনও সমস্যায় পড়তাম, মুকুলদার কাছে যেতাম, ফোন করতাম, পরামর্শ নিতাম। মুকুলদা সব সময় আমাকে সাহায্য করত। কোনও সময় খালি হাতে ফেরায়নি। আজ অনেক কথা মনে পড়ছে। মুকুলদার চলে যাওয়া মানে রাজনীতির ক্ষতি। মমতা যেমন আমার কাছে দিদি, মুকুলও সেভাবে আমার কাছে দাদা ছিল।'
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের পরই যে দলে সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন মুকুল, সেটাও নিদ্ধির্ধায় জানান অনুব্রত। বলেন, 'তখন আমরা চিনতাম মমতাদি আর মুকুল রায়কে। দিদি যা বলত, মুকুলদা দল সেভাবে পরিচালনা করত। তবে মুকুলদা চুপচাপ কাজ করত। কখনও নিজেকে সেভাবে জাহির করেনি। দলে সম্মানও পেত খুব। দিদি মুকুল রায়কে দলে ভালো জায়গা দিয়েছিল।'
তবে মুকুল রায়ের বিজেপি-তে যাওয়া মোটেই ভালোভাবে নেননি অনুব্রত মণ্ডল। সেকথাও সাফ জানান। বলেন, 'আমি তো বিশ্বাসই করতে পারিনি। বিজেপিতে জয়েন করেছিল মুকুলদা। আমি বলেছিলাম, তুমি এটা ঠিক করোনি। কেন এটা করতে গেলে? কিন্তু মুকুলদা কোনও উত্তর দেয়নি। ও কথা খুব কম বলত। তবে সব খবর রাখত। খুব বুদ্ধিমান মানুষ ছিল তো। বিজেপিতে যাওয়ায় আমি কষ্ট পেয়েছিলাম।'
মুকুল রায়ের চলে যাওয়া আসলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে চাণক্যর মৃত্যু বলে উল্লেখ করছেন অনেকে। সেই বিষয়ে অনুব্রত বলেন, 'হ্য়াঁ, চাণক্য তো ছিলই। খুব দক্ষ লোক। তবে মুকুল রায়ের পর এতবড় রাজনীতিবিদ আর আসবে না এটা ঠিক কথা নয়। আমাদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তো খুব ভালো কাজ করছে। মুকুলদার পরও অভিষেকের মতো বড় নেতা এসেছে।'