
শুক্রবারের পর শনিবারও উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। এদিনও পরিস্থিতি রণক্ষেত্র ছিল। ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। পরদিন আরও এক শ্রমিক আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় উত্তেজনা দ্বিগুণ হয়। জাতীয় সড়ক অবরোধ, রেল রোকো, গাড়ি ভাঙচুর থেকে শুরু করে সাংবাদিক নিগ্রহ, সব মিলিয়ে বেলডাঙার পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের নেতৃত্বে র্যাফ ও বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকায় মোতায়েন হয়। অবরোধ তুলতে অভিযান শুরু করা হয়। বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সাংবাদিক বৈঠকে এসপি দাবি করেন, মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। তাঁর কথায়, মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সাংবাদিক সোমা মাইতি-র উপর হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ‘মূলচক্রী’ মতিউর রহমান। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে এবং তাদেরও গ্রেফতার করা হবে। সাংবাদিকদের উপর হামলা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এসপি। তবে একই সঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমকে সতর্কতার পরামর্শ দেন।
প্রথমদিকে ‘নিষ্ক্রিয়তা’র অভিযোগে জেলা পুলিশের ব্যাখ্যা, সকাল থেকেই নজর রাখা হচ্ছিল। তবে তখনই লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে যেত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের মতে, বিক্ষোভকারীদের আক্রমণাত্মক প্রবণতা বাড়তেই শক্তভাবে নামা ছাড়া উপায় ছিল না।
উত্তেজনার মূল সূত্রপাত ঝাড়খণ্ড প্রদেশে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু। মৃতদেহ এলাকা পৌঁছাতেই সুজাপুর কুমারপুরের বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ শুরু করেন। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে রেল রোকোও হয়। তার মাঝেই শনিবার আরও এক শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠে এলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। দুই দিনের মধ্যে অন্তত বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও এসেছে।
শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিকার আনার চেষ্টা করেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তবে তাঁকে ঘিরেই শুরু হয় তর্কাতর্কি ও বিক্ষোভ। বিধায়ক বারবার শান্ত থাকার আবেদন করলেও বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলতে রাজি হননি। সব মিলিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘিরে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা পুলিশের ভূমিকা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা, এই তিনকেই বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।