
কথা ছিল বিয়ে করতে যাওয়ার, সোজা পৌঁছতে হল হাসপাতালে। লাভপুরে সাপের ছোবল খেয়েও লগ্নরক্ষায় বিয়েতে বসল বর। শুনতে একটু অবাক লাগছে তো? তবে সিনেমাকে হার মানানো বাস্তবে এমনই ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের লাভপুরে। দোনাইপুর গ্রামের বাসিন্দা সুবীর সাহার বড় ছেলে,সুব্রত সাহার বিয়ে ঠিক হয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার মুরাতিপুরের ঈশিতার সঙ্গে। সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত এগারোটা—এই ছিল শুভ লগ্ন। কিন্তু বর রওনা দেওয়ার পরই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা।নতুনহাট ব্রিজ পার হওয়ার কিছুক্ষণ পর সুব্রত বাঁ-পায়ে তীব্র জ্বালাভাব অনুভব করেন। আলো জ্বালিয়ে দেখা যায় পায়ের পাতায় সাপের কামড়ের দাগ ও রক্তপাত। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মঙ্গলকোট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরীক্ষায় বিষক্রিয়া ধরা পড়লে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
খবর পৌঁছতেই বিয়েবাড়ির আনন্দ উৎসব থমকে যায়,বন্ধ হয়ে যায় গান বাজনা। কনের পরিবার তড়িঘড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছুটে আসে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর চিকিৎসকেরা বন্ডে সই করিয়ে সাময়িক ছাড় দেন। বরপক্ষ লগ্নরক্ষার্থে ছেলেকে নিয়ে সটাং পৌঁছে যায় বিয়ের মন্ডপে। শেষমেশ চার হাত এক হয়। লগ্নরক্ষার্থে বিয়ে সম্পন্ন করে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সুব্রতকে, পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রবিবার সুস্থ হয়ে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন সুব্রত সাহা। চিকিৎসকদের মানবিকতায় কৃতজ্ঞ নবদম্পতি বলেন- ভগবানের কৃপায় আজ আমরা একসঙ্গে—এমন রাত যেন আর কারও জীবনে না আসে। এক কথায় এক ঐতিহাসিক বিয়ের সাক্ষী থাকল ছেলে এবং মেয়ের পরিবার।
রিপোর্টার- শান্তনু হাজরা