
SIR এর ফর্ম কীভাবে ভর্তি করতে হবে তাই নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছে আসামির পরিবাররা। পরিবারের সদস্য সংশোধনাগারে রয়েছেন। এদিকে SIR-এর ফর্ম জমা দেওয়ার তারিখ এগিয়ে আসছে। BLO বাড়িতে অনেকদিন আগেই ফর্ম দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু যিনি সংশোধনাগারে রয়েছেন তাঁর ফর্ম কীভাবে ফিলআপ করা হবে? ফর্মে ছবি লাগানোর বিষয়টিই বা কী হবে? কারণ সংশোধনাগারের ভিতরে তো ছবি তোলার অনুমতি নেই। SIR আবহে সংশোধনাগারে থাকা আসামিদের কীভাবে ফর্ম ফিলাপ হবে সেই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বাড়ির লোকেরা। ভোটার লিস্টে নতুন করে নাম তোলার কথাও ভাবছেন আসামির পরিজনদের একাংশ। কিন্তু সংশোধনাগার সুপারিনটেন্টে র সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান যে তাদের কাছে লিখিত অ্যাপ্লিকেশন জমা করলে তারা ছবি এবং সই দুটোরই ব্যবস্থা করে দেবেন। কিন্তু এই খবরের কথা সাধারণ মানুষ না জানাতে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
SIR পরিস্থিতিতে ফর্ম ফিলাপ না হয় তাহলে তাঁদের বাড়ির লোকেরা যারা সংশোধনাগারে রয়েছে তাদের কী হবে? এই চিন্তায় কার্যত রাতের ঘুম ছুটেছে আসামির বাড়ির লোকেদের। কিন্তু সংশোধনাগার সুপারিনটেন্টের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান যে তাদের কাছে লিখিত অ্যাপ্লিকেশন জমা করলে তারা ছবি এবং সই দুটোরই ব্যবস্থা করে দেবেন। কিন্তু এই খবরের কথা সাধারণ মানুষ না জানাতে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এবিষয়ে হাওড়া কোর্টের এডভোকেট গৌতম ধ্যাঙ জানান, ফর্মে বলা রয়েছে বাড়ির লোকজন বা যেকোনও ধরনের অভিভাবক বা আত্মীয় ফর্মে সাইন করতে পারেন এবং সেটা গৃহীত হবে।
নভেম্বর মাসের শুরুতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর৷ নির্বাচন কমিশন বারবার স্পষ্ট করেছে যে এই প্রক্রিয়ায় কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না৷ তার পরও প্রশ্ন উঠছে যে সব ভোটারের নাম উঠবে তো? যাঁরা বিচারাধীন বন্দি বা সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাঁদের নাম কি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে? নির্বাচন কমিশন অবশ্য আশ্বস্ত করছে সকলকে৷ কীভাবে সব বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় রাখতে হবে, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও কমিশন করে ফেলেছে৷ প্রসঙ্গত, কারা দফতর রাজ্যের জেলে বন্দিদের মধ্যে যাঁরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন, তাঁদের জন্য বড় পদক্ষেপ করেছে। জেলেই বন্দিরা এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। এবং বন্দিদের ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন আধিকারিকরা। এই নিয়ে রাজ্যের জেলগুলিকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন ADG (কারা) লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা।
রাজ্যে ৬২টি জেল রয়েছে। এডিজি (কারা)-র ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও বন্দির পরিবার যদি এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে আসে, তাহলে সেই ফর্ম সংশ্লিষ্ট বন্দির কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ওই বন্দিকে ফর্ম পূরণে সবরকম সাহায্য করতে হবে। ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন জেলগুলোর ওয়েলফেয়ার অফিসার-সহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা। কারা দফতর জানিয়েছে, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার যোগ্য সমস্ত বন্দি যেন ফর্ম পূরণ করতে পারেন। একটি নামও যেন বাদ না যায়।
রিপোর্টারঃ হিমাদ্রি ঘোষ