
Abhishek Banerjee Hiran Chatterjee: মেদিনীপুর থেকে ফের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে খোঁচা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুক্রবার মেদিনীপুরে আয়োজিত 'রণ সংকল্প সভা'-র মঞ্চে অভিষেক বলেন, বিজেপির দুই বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তিনি নিজে সেই প্রস্তাবে সায় দেননি। আর তারপরেই হিরণ ও অজিত মাইতির সেই ভাইরাল ছবির প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি দাবি করেন, হিরণও একসময় তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে দলে আসতে দেননি বলে দাবি করেন।
মেদিনীপুরের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন, 'আমি নাম বলব না। তবে এখানে বিজেপির দু’জন বিধায়ক রয়েছে। এই দুই জনই আসতে চেয়েছিল। আমি আসতে দিইনি।' আরও বলেন, 'সিপিএমের হার্মাদরাই আজ বিজেপির জল্লাদ হয়ে উঠেছে। যতদিন আমরা আছি, ততদিন তৃণমূলে ওদের জন্য দরজা বন্ধ।'
বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে নিশানা করে অভিষেক বলেন, 'এই অজিত মাইতির সঙ্গে হিরণ আমার অফিসে এসেছিল। আপনারা দেখেছেন তো? নিইনি। আপনাদের দাবিকে মান্যতা দিয়েছি।' একই সঙ্গে খড়গপুরে সংগঠন বাড়ানোর বার্তা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য, 'খড়গপুর তৃণমূলকে জেতাতে হবে। খড়গপুরের দায়দায়িত্ব আমার। যা লাগবে খড়গপুরের মানুষের জন্য, আমি দায়িত্ব নিয়ে ব্যবস্থা করব।'
বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, 'বিজেপিকে তো আপনারা অনেক সুযোগ দিলেন। বিধায়ক ছিল, ১৯ থেকে ২৪ পর্যন্ত সাংসদ ছিল। কিছু তো পাননি। উল্টে আমাদের অধিকার বন্ধ করে রেখেছে।' তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কদের কারণেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বছর তিনেক আগে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দলবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই সময় শোনা যায়, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন হিরণ। অজিত মাইতির সঙ্গে হিরণের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পর জল্পনা আরও বেড়ে যায়। যদিও সে সময় অভিষেকের এই দাবি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিও করেছিলেন তিনি।
এ বার মেদিনীপুরের সভা থেকে অভিষেক ফের একই দাবি করায় নতুন করে শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, দলের আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট। বিজেপি বা সিপিএম থেকে আসা নেতাদের জন্য তৃণমূলে কোনও জায়গা নেই। অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের দাবি, এই বক্তব্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে দলবদল ও সম্ভাব্য সমীকরণ ঘিরে যে জল্পনা চলছিল, অভিষেকের এই বক্তব্যে তা আরও এক ধাপ এগোল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।