
একুশের মতো ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বাঙালি অস্মিতাকে অন্যতম হাতিয়ার করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালে বিজেপি ও তাদের নেতাদের 'বহিরাগত' তকমা দিয়ে দেদার প্রচার করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই স্ট্র্যাটেজি যে ভোটবাক্সে কাজে লেগেছিল, গত বিধানসভা নির্বাচনের রেজাল্টই তার প্রমাণ। এবারেও দেখা যাচ্ছে, স্ট্র্যাটেজিতে বিশেষ বদল নেই। 'বঙ্কিমদা' দিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, আজ সাধারণতন্ত্র দিবসেও সেই বিতর্কের রেশ রয়ে গেল। তবে এবার তৃণমূল ইস্যু করল স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার নামের ভুল উচ্চারণকে।
মাতঙ্গিনী হাজরার নামের উচ্চারণ ঘিরে বিতর্ক
এদিন দিল্লির কর্তব্যপথে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোর থিম ছিল, স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলা ও বাঙালির অবদান। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসুদের ছবির সঙ্গে ছিল মাতঙ্গিনী হাজরার ছবিও। বাংলার ট্যাবলো যখন কর্তব্যপথে দেখানো হচ্ছে, তখন ধারাভাষ্যকার বাংলার মনীষীদের নাম বলছেন। একে একে সবার নাম বলতে গিয়ে মাতঙ্গিনী হাজরাতে গিয়েই গোল বাঁধল। ইংরেজি ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শহিদ হওয়া মাতঙ্গিনী হাজরার নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে ধারাভাষ্যকার 'মাতাগিনি হাজরা'বলেন।
ভোটমুখী বাংলায় ইস্যু করতে সময় নিল না তৃণমূল
ব্যস, ভোটমুখী বাংলায় এই উচ্চারণকে ইস্যু করতে সময় নিল না তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এক্স প্রোফাইল সেই ভিডিও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করল তৃণমূল। বিজেপি-কে বাংলা বিরোধী আখ্যা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পোস্টে লিখল, 'এটা স্লিপ অফ টাং নয়। এটাই আসলে প্যাটার্ন। বাংলার মনীষীদের অপমান, ইতিহাসকে ধ্বংস করা ও আমাদের শহিদদের উপেক্ষা করার একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। যাঁরা দেশের জন্য নিজেদের প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে সামান্যতম হোমওয়ার্কটুকু নেই। বাংলাকে বিদ্রূপ করে, বাংলার ঐতিহ্যকে মুছে, বাঙালিদের অসম্মান করার বিকৃত বাসনা চরিতার্থ করা হচ্ছে।'
উচ্চারণগত বা সম্বোধনের ভুল হলেই ক্যাচ করছে তৃণমূল কংগ্রেস
বস্তুত, বন্দে মাতরম রচনার দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষে সংসদে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'বঙ্কিমদা'সম্বোধন করাকে ইস্যু করে তৃণমূল। বাঙালির আবেগকে বিজেপি বোঝে না, এই দাবিতে বারবার নিশানা করতে শুরু করে। সেই বিতর্ককেই জিইয়ে রাখতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল। বাঙালি ইস্যুতে বিজেপি বা কেন্দ্রের কোনওরকম উচ্চারণগত বা সম্বোধনের ভুল হলেই ক্যাচ করছে তৃণমূল কংগ্রেস।
কিছু দিন আগে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডভিয়া মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে (মোহন বেগান ও ইস্ট বেগান) উচ্চারণ করেছেন। সে নিয়েও বিতর্ক কম হয়নি। দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী অন্যতম প্রাচীন দুটি ফুটবল ক্লাবের নাম জানেন না, তা নিয়ে বাঙালি আবেগকে ইস্যু করে সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেস।