
আনন্দপুরের মোমো কারখানার মালিককে এখনও গ্রেফতার করা হল না কেন? শনিবার ব্যারাকপুরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে এই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
ব্যারাকপুরে এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে যোগ দিয়ে অমিত শাহ আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে সরাসরি রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, 'আজ বাংলায় এসে এত বড় কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু তার আগে আনন্দপুরের মোমো কারখানায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই। এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতি।'
শাহের দাবি, রাজ্য সরকারের চরম অব্যবস্থা ও দুর্নীতির ফলেই এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, 'এই বিষয়টি নিয়ে আমি পরে আরও বিস্তারিতভাবে কথা বলব।'
আনন্দপুরের মোমো কারখানায় অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে এখনও কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।
উল্লেখ্য, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২৭ জন। শুক্রবার পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ২১টি দেহাংশ। তবে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি কাদের, তাও নিশ্চিত করা যায়নি। সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, আনন্দপুরে নিখোঁজ ২৭ জনের নামে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ২১টি দেহাংশ কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (সিএফএসএল)-এ পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার পরেই নিহতদের সঠিক পরিচয় জানা যাবে। দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার নিজেও সিএফএসএল-এ গিয়েছিলেন।
অন্য দিকে, শুক্রবারও ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান চলেছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও কোনও দেহাংশ পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডেকরেটার্সের গুদামের টিনের শেড উপড়ে ফেলে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।