
ফের রাজ্য সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামীকাল, শুক্রবার সন্ধেয় তাঁর কলকাতায় পৌঁছনোর কথা। তবে এবারের সফরে কোনও জনসভা বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকছে না।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, 'কাল সন্ধ্যায় অমিত শাহ রাজ্যে আসছেন। দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক হওয়ার কথা। একটি বারাসতে, অন্যটি শিলিগুড়িতে।' দলীয় সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই বৈঠকগুলির মূল উদ্দেশ্য দলের রণকৌশল চূড়ান্ত করা।
রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বা মার্চের শুরুতেই বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে। তার আগেই সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করা, দুর্বল এলাকাগুলি চিহ্নিত করা এবং রাজ্য থেকে মণ্ডল স্তর পর্যন্ত নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই শাহের প্রধান লক্ষ্য। কলকাতায় থাকার সময় রাজ্য, জেলা ও মণ্ডল স্তরের একাধিক নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। সেই সময় রাজ্যজুড়ে সভা-মিছিলের উপর বিধিনিষেধ থাকে, মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম কার্যকর হয়। ফলে বড় কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি পাওয়া নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে জানুয়ারি মাসের মধ্যেই রাজ্য সফর সেরে নেওয়াকেই ‘কৌশলগত সময় নির্বাচন’ হিসেবে দেখছে বিজেপির অন্দরমহল।
সুকান্ত মজুমদার আরও জানিয়েছেন, বারাসতে সাংগঠনিক বৈঠকের পর অমিত শাহ উত্তরবঙ্গ সফরেও যেতে পারেন। রাজনৈতিকভাবে উত্তরবঙ্গকে বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বলেই মনে করা হয়। সেখানে সংগঠনের ভিত আরও শক্ত করা গেলে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে।
রাজ্য বিজেপির অন্দরেই স্বীকার করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নেতৃত্ব ও সংগঠনের মধ্যে কিছু জায়গায় অসংগতি তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে সেই ফাঁকফোকর মেরামত করাই শাহের অন্যতম লক্ষ্য। কে কোন দায়িত্বে থাকবেন, কাদের উপর বেশি ভরসা রাখা হবে, প্রচারের ভাষা ও কৌশল কী হবে, এই সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দিকনির্দেশ মিলতে পারে এই সফরের বৈঠকগুলি থেকেই।