
সামনেই রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোট। আর এই আবহেই জেলবন্দি রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। যদিও তাঁকে দল বীরভূমের জেলা সভাপতি পদেই বহাল রেখেছে। শোনা যাচ্ছে এজলাস থেকেই অনুব্রত মণ্ডল দলের নেতা-কর্মীদের বার্তা দিচ্ছেন। পঞ্চায়েত ভোটে দলের রণকৌশল নিয়ে সেখানেই তাঁদের নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। আর এই আবহেই দল ছাড়লেন অনুব্রত ঘনিষ্ঠ বীরভূমের তৃণমূল নেতা বিপ্লব ওঝা। তাঁর অভিযোগ, তিনি বিগত এক বছর ধরে দলে ব্রাত্য হয়ে রয়েছেন। দল তাঁকে কোনও কর্মসূচিতে ডাকেনি। তাই দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে বিপ্লব ওঝার এই তৃণমূল ত্যাগে জল্পনা বাড়িয়ে দিল অনুব্রতহীন বীরভূমের জেলা রাজনীতিতে। প্রসঙ্গত অনুব্রত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে যেতেই দলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে একাধিকবার। যেমন বিপ্লব ওঝার অভিযোগ, প্রায় এক বছর হল দলীয় নেতৃত্ব কেউ তাঁর খোঁজ খবর রাখেননি। তাই অভিমান এবং ক্ষোভেই দল ছাড়ার মত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সহ-সভাপতি বিপ্লব ওঝা।
মঙ্গলবার দলের বিরুদ্ধে নিজের অভিমানের কথা উগরে দিয়েছেন বিপ্লব ওঝা।এই ভাবে বেশি দিন দল করা যায় না বলে জানিয়েছেন বিপ্লববাবু। তাই তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন। বিপ্লব ওঝার বক্তব্য, "তৃণমূলের পদে থকালেও আমাকে বাদ রেখে সমস্ত কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, আমার মনে হয়েছে আমাকে আর তৃণমূলের দরকার নেই। তৃণমূল যেহেতু আমাকে চাইছে না, তাহলে শুধু শুধু সেই দলের পতাকা হাতে নিয়ে তৃণমূল তৃণমূল বলে চিৎকারের কোনও মানে হয় না। সেই কারণেই স্বেচ্ছায় দল থেকে সরে আসছি।"
২০০৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন বিপ্লব ওঝা। সেই সময় তিনি ছিলেন নলহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান। তাঁর দলবদলের পর নলহাটি পুরসভার পরিচালন ক্ষমতাও কংগ্রেস থেকে তৃণমূলের হাতে চলে যায়। ২০১২ সাল পর্যন্ত ওই পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। তার পর ২০১৩ সালে নলহাটি বিধানসভায় উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁকে সংগঠনের কাজে লাগায় তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা সহ-সভাপতি করা হয়। পাশাপাশি জেলা পরিষদের সদস্য পদেও ছিলেন বিপ্লব। প্রসঙ্গত অনুব্রত মণ্ডল হেফাজতে যেতেই বীরভূমের মসনদ দখলের ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে । কিন্তু, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত এখন রয়েছে অনুব্রতর উপর ৷ তাই এখনও পর্যন্ত সব পদেই বহাল রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল ।