
Baranagar extortion case: ভোটের মুখে তোলাবাজির অভিযোগ। বরাহনগরের গোপাল লাল ঠাকুর রোড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। এক লক্ষ টাকা না দেওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী সুদীপ্ত ঘোষ পেশায় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। তাঁর দাবি, বড় কাজের বরাত পাওয়ার পর থেকেই তাঁর কাছে এক লক্ষ টাকা ‘চাঁদা’ দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। পরে বনহুগলির যুবক সংঘের সামনে প্রকাশ্যে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
সুদীপ্তের কথায়, 'রাত আটটা নাগাদ আমাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সালিশি সভার নামে ডেকে হুমকি দেওয়া হয়। টাকা না দিলে জানে শেষ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়।' তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা সকলেই স্থানীয় নেতা শঙ্কর রাউতের ঘনিষ্ঠ।
এই ঘটনায় বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত নেতা শঙ্কর রাউত অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগকারী সুদীপ্ত ঘোষ এক আইনজীবী দম্পতির কাছ থেকে তাঁর নাম ব্যবহার করে টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু কাজ সম্পূর্ণ করেননি। তিনি দাবি করেন, কাজ শেষ করতে বা টাকা ফেরত দিতে বলায় সুদীপ্ত মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। শঙ্করের কথায়, 'এটা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র। আমি কোনও সিসিটিভি ফুটেজ দেখিনি। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।'
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, 'এটাই তৃণমূলের তোলাবাজির সংস্কৃতি। টাকা না দিলেই বাড়ি থেকে তুলে এনে মারধর করা হচ্ছে।' তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত নেতা বেআইনিভাবে বাড়িতে ঢুকে মারধর করেছেন এবং পকেট থেকে টাকা কেড়ে নিয়েছেন।
অন্যদিকে বরাহনগরের তৃণমূল বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তে কী উঠে আসে সেটাই দেখার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক মহলে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সংবাদদাতা: দীপক দেবনাথ