
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে উত্তেজনা। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের ডাকে আয়োজিত সম্মেলনে যোগ দিতে আসা কার্তিক মহারাজের গাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখালেন একদল হিন্দু মহিলা। গাড়ির সামনে বসে 'গো ব্যাক' স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। শুক্রবার বাসন্তীর চুনাখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়িয়া মোড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আচমকা এই বিক্ষোভে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাস্থল সরিয়ে দেওয়া হয় থেকে বিক্ষোভকারী মহিলাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসন্তীর চুনাখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ ঘেরী হরি মন্দির প্রাঙ্গণে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সম্মেলনে যোগ দিতেই বাসন্তীতে আসেন কার্তিক মহারাজ। বড়িয়া বাজার এলাকায় পৌঁছনোর পরই একদল হিন্দু মহিলা তাঁকে লক্ষ্য করে 'গো ব্যাক' স্লোগান দিতে শুরু করেন। গাড়ির সামনে বসে পড়ে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এই ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল না হয়, সে জন্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে প্রশাসন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে কার্তিক মহারাজ বলেন, 'এসব করে কোনও লাভ নেই। প্রশাসন আছে। তারা সব বিষয় দেখছে। হিন্দু বাঙালিরা সজাগ হচ্ছেন, ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মদতেই এই সব হচ্ছে, সেটা আমরা জানি।' তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক ইঙ্গিত রয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের সহ-সংযোজক বিকর্ণ নস্করও একই সুরে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, 'এই সভা ভণ্ডুল করার জন্য এলাকার কিছু তৃণমূল নেতা চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।' সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, সম্মেলন বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে এই বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল। তিনি বলেন, 'এই অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শুনেছি এলাকার কিছু মহিলা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এর সঙ্গে আমাদের দলের কোনও যোগ নেই।' তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক দায় অস্বীকার করা হয়েছে।
এদিকে, বিক্ষোভকারী মহিলাদের তরফে পাল্টা গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, কার্তিক মহারাজ একজন মহিলার শ্লীলতাহানি করেছেন। এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, হিন্দু সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাসন্তীর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক তরজা, অন্যদিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ; এই ঘটনার রেশ কত দূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।