Advertisement

Dudhkumar Mondal: BJP-তে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ বীরভূমের দুধকুমারের, পাশে তথাগত-অনুপম

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে এরাজ্যে বিজেপির পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সাংসদ-বিধায়ক সহ একাধিক গেরুয়া শিবিরের নেতা ইতিমধ্যে দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। বারবার প্রকাশ্যে আসছে দলের গোষ্ঠীকোন্দল। আর এই আবহেই এবার সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন বীরভূম জেলার বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দুধকুমার মণ্ডল।

Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 20 Jun 2022,
  • अपडेटेड 2:40 PM IST
  • সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন বীরভূম জেলার বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি
  • আর তা নিয়েই পদ্ম শিবিরে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ


২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে এরাজ্যে বিজেপির পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সাংসদ-বিধায়ক সহ একাধিক গেরুয়া শিবিরের নেতা ইতিমধ্যে দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। বারবার প্রকাশ্যে আসছে দলের গোষ্ঠীকোন্দল। আর এই আবহেই এবার সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন বীরভূম জেলার বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দুধকুমার মণ্ডল। আর তা নিয়েই পদ্ম শিবিরে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ।

 

 

বিজেপির বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা বর্তমানে রাজ্য কমিটির সদস্য দুধকুমার মণ্ডল রবিবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি দলীয় কর্মীদের বসে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন বীরভূমের এই দাপুটে বিজেপি নেতা। কেননা তাঁকে না জিজ্ঞাসা করেই দল জেলায় বেশ কিছু কমিটি গঠন করেছে। বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি দুধকুমার তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘জেলা থেকে ব্লক কমিটি আমার সাথে আলোচনা না করে কমিটি গঠন করেছে। তাই ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থক এবং কার্যকর্তাগণ আমাকে যারা ভালোবাসেন তার চুপচাপ বসে যান।’ সূত্রের দাবি, শনিবার বীরভূম জেলার ময়ূরেশ্বরে দলের ব্লক কমিটি গঠনের জন্য ডাকাই হয়নি দুধকুমারকে। যদিও দলের এক নেতার অনুরোধে তিনি সেই বৈঠকে যোগ দেন। কিন্তু তিনি সেই বৈঠকে যে সব প্রস্তাব রেখেছিলেন তা মানতে অস্বীকার করে দেন দলেরই প্রাক্তন জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। পরে দেখা যায় বুথ কমিটিতে দুধকুমার  অনুগামীদের জায়গাই দেওয়া হয়নি। তারপরেই ওই ফেসবুক পোস্ট করেন দুধকুমার।

 সূত্রের দাবি, নয়া কমিটিতে নিজের পছন্দের লোক না থাকাতেই নাকি নেতৃত্বের উপর চটেছেন দুধকুমার ৷  দুধের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ ও বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরাও। এই ঘটনার পরই দুধকুমারের ফেসবুক পোস্টের 'স্ক্রিনশট'-সহ একটি ট্যুইট করেন অনুপম হাজরা ৷ তিনি লেখেন, "দুধকুমারদার মতো মানুষ সংগঠন থেকে হারিয়ে গেলে তা চিন্তার এবং উদ্বেগের !!! বর্তমানে যাঁরা সংগঠনে আছেন, তাঁদের উচিত দুধকুমার মণ্ডলের মতো পুরনো মানুষ, যাঁরা সাংগঠনিকভাবে বলিষ্ঠ, তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শকে যথাযথ সম্মান এবং গুরুত্ব দিয়ে সংগঠনের সামনের সারিতে আনা !!!"

Advertisement

 

দুধকুমার মণ্ডলকে ভালবাসি বলে ট্যুইট করেছেন বিতর্কিত বিজেপি নেতা তথাগত রায়ও।

যদিও দুধকুমারের  এই বিদ্রোহকে পাত্তা দিতে চাইছেন না বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপিতে নেতা দেখে কেউ দল করে না। দলের বিধি মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের অবশ্য  অভিমত, যে পদ্ধতিতে বাংলায় বিজেপি চলছে তাতে দলের কর্মী এবং সাধারণ মানুষ হতাশ হচ্ছেন। এভাবে চললে দল এগোতে পারবে না। অযোগ্য, দলের প্রতি দায়বদ্ধতা নেই এমন নেতাদের জেলা থেকে কমিটির প্রধান হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা পদ পেয়ে নানারকম নির্দেশ দিচ্ছেন। কিন্তু ওই নেতারা নিজেরা জনসাধারণের জন্য বা তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও কর্মসূচিতে নিচ্ছেন না।  ফলে আরেকবার প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সত্যিই দলের অন্দরে বঞ্চিত ও ব্রাত্য বিজেপি-র আদি নেতা-কর্মীরা? 

প্রসঙ্গত, সংগঠক হিসাবে দুধকুমার মণ্ডলের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে ৷ দুধকুমার মণ্ডলের আমলেই বীরভূমে বিজেপির রমরমা হয়েছিল জেলাজুড়ে। অথচ পুরভোটের সময় তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করেই কলকাতা থেকে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। দুধকুমারের আহ্বানের পর যদি সত্য়িই বিজেপি কর্মীদের একাংশ দলের থেকে দূরত্ব তৈরি করেন, তাতে আখেরে সংগঠনেরই ক্ষতি হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল ৷  সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের পরেও দুধকুমার নিজের বক্তব্যে অনড়। তাঁর কথায়, দল এখন কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এদিকে রবিবারই বীরভূমের নলহাটির বিজেপি নেতা অনিল সিংহকে দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ৷

Read more!
Advertisement
Advertisement