
মহারাষ্ট্রের পুনে জেলায় রাজ্যের এক পরিযায়ী শ্রমিকের হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনল পুনে গ্রামীণ পুলিশ। তাদের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনাটি কোনও ভাষা বা পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধ নয়। বরং মদ্যপ অবস্থায় বচসার জেরেই এই খুন হয়ে থাকতে পারে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে কোরেগাঁও এলাকায় খুন হন পুরুলিয়ার বাসিন্দা ২৪ বছরের সুখেন মাহাতো। তিনি পুনের একটি স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ইন্সপেক্টর দীপ্রতন গায়েকোয়াড় জানান, সেদিন বিকেল ৩টা নাগাদ মাহাতো কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন, কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছননি। পরে তাঁকে কোরেগাঁও এলাকায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মাহাতো দুই ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়াচ্ছেন। যদিও হামলার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েনি, কিছুক্ষণ পর তাঁকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গায়েকোয়াড় বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে মদ্যপ অবস্থায় সৃষ্ট বিবাদের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। এই মুহূর্তে অন্য কোনও উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি।' ইতিমধ্যে একটি মামলা রুজু করে সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে ঘটনাটিকে ‘ঘৃণামূলক অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, সুখেন মাহাতোকে বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে টার্গেট করা হয়েছিল। নিহতের একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি লেখেন, এই 'বর্বর হত্যাকাণ্ডে' তিনি শোকাহত ও ক্ষুব্ধ। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
তবে পুনে গ্রামীণ পুলিশের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত তদন্তে ভাষাভিত্তিক বিদ্বেষ বা পরিযায়ীদের বিরুদ্ধে ঘৃণার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে, শীঘ্রই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।